স্পেনের জয়ে আইশোস্পিডের উচ্ছ্বাস, ‘এই কষ্ট থেকে বাঁচলাম!’

বিশ্বকাপে স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা নিশ্চিত হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়াভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা আইশোস্পিড। পাঁচ কোটিরও বেশি অনুসারী থাকা এই মার্কিন স্ট্রিমার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম থেকেই নিজের নিয়মিত সরাসরি সম্প্রচারে কোটি কোটি দর্শকের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। স্পেনের জয়ের পর তার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
পুরো বিশ্বকাপজুড়ে আইশোস্পিড আর্জেন্টিনার প্রায় সব ম্যাচই অনুসরণ করেছেন। তবে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বড় ভক্ত হওয়ায় শুরু থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ দলগুলোকেই সমর্থন করে আসছিলেন। এ কারণে পুরো টুর্নামেন্টে বিভিন্ন সময় তাকে বৈষম্যমূলক আচরণেরও শিকার হতে হয়েছে।
স্পেনের শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর স্পেন ও আর্জেন্টিনার পতাকার নকশা সংবলিত একটি জার্সি পরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আইশোস্পিড।
তিনি বারবার‘হ্যাঁ! আমি বেঁচে গেলাম!’ এবং ‘এই কষ্ট থেকে বাঁচলাম!’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। মূলত নিজের প্রিয় ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিকে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে না দেখার আনন্দই তিনি রসিকতার ছলে প্রকাশ করছিলেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৫ কোটিরও বেশি অনুসারী থাকা আইশোস্পিড বিশ্বকাপজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিত্বদের একজন ছিলেন। তিনি লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাসহ একাধিক ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। তবে মিশর ও কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে তার সঙ্গে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থকের আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচ এবং পরবর্তী নকআউট পর্বে আইশোস্পিড আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী দলগুলোর পক্ষ নিয়ে সমর্থন করেন। এমনকি প্রতিপক্ষ দলের জার্সিও পরেছিলেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু দর্শক তার প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে গ্যালারি থেকে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন আইশোস্পিড। সে সময় এক আর্জেন্টাইন নারী তাকে স্প্যানিশ ভাষায় ‘চিড়িয়াখানায় গিয়ে কাঁদো’ বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠে। তার গায়ের রঙকে লক্ষ্য করেই এই মন্তব্য করা হয়েছে বলে ঘটনাটিকে বর্ণবাদী অপমান হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এর আগে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচেও এক ব্যক্তি তার দিকে বানরের অঙ্গভঙ্গি করেছিলেন, যা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানায়, ফুটবল, বিশ্বকাপ কিংবা সমাজের কোথাও বর্ণবাদ, ঘৃণা ও বৈষম্যের কোনো স্থান নেই। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আইশোস্পিড প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।








