ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়া কিকিই এখন আর্জেন্টিনার নতুন আশা

বুয়েন্স আয়ার্সে ইকুয়েডরকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রস্তুতিমূলক এই ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত স্টিফেন রামোসের অভিষেক।
বিজ্ঞাপন
ফুটবলে ‘কিকি’ নামে পরিচিত এই ফরোয়ার্ডের জীবনের গল্পটাও বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। ২০১০ সালে হাইতিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের মাত্র ৯ মাস পর এক আর্জেন্টাইন দম্পতি তাকে দত্তক নেন। এরপরই আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমান তিনি।
২০০৯ সালের ৩ এপ্রিল ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে জন্ম রামোসের। ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পের এক বছর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জ্য-ম্যাক্স বেলেরিভে জানিয়েছিলেন, দুর্যোগটিতে প্রায় সোয়া তিন লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া ছোট্ট রামোসই এখন আর্জেন্টিনার ফুটবলে সম্ভাবনাময় এক প্রতিভা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আর্জেন্টিনায় বেড়ে ওঠা রামোস বর্তমানে ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব দলে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। তার পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের কোচ ও সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা দিয়েগো প্লাসেন্তেরও।
আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে কাতারে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ। সেই আসরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রীতি ম্যাচ খেলছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক ও মোজাম্বিক।
এএফএ আয়োজিত বিভিন্ন টুর্নামেন্টেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন কিকি রামোস। শারীরিক সক্ষমতা, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করার দক্ষতা এবং গোল করার সামর্থ্য দিয়ে তিনি নজর কেড়েছেন। এসব গুণই তাকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের স্কাউটদের নজরে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে দেশটির অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে তার।
বিজ্ঞাপন
২০২৬ কাতার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নিতে পারলে রামোস একটি বিশেষ নজির গড়বেন। ১৯৭৩ সালে প্যারাগুয়ের হেরিবের্তো কোরেয়ার পর তিনিই হতে পারেন আর্জেন্টিনার জার্সি পরা প্রথম বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়। কোরেয়াও পরে আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব গ্রহণ করে দেশটির জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন।
রামোস ও কোরেয়ার মধ্যে আরও একটি মিল রয়েছে। দীর্ঘ ৫৩ বছরের ব্যবধান হলেও দুজনেই ভেলেজ সার্সফিল্ডের হয়ে খেলার সময় আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন।








