বাংলাদেশি ফুটবলারকে ১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ফিফার

মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত চার জাতির টুর্নামেন্টে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে বাংলাদেশি ফুটবলার আল আমিনকে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দায়িত্বশীল একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞাপন
গত জুনে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত ফিফা স্বীকৃত চার জাতির টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল ও স্বাগতিক মালদ্বীপের মধ্যকার ম্যাচে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই দলের খেলোয়াড়রা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ওই ঘটনার পর বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার ও ফুটবলার মিরাজুলকে জরিমানাসহ শাস্তি দিয়েছিল ফিফা। তবে ফরোয়ার্ড আল আমিনের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
সম্প্রতি আল আমিনের বিরুদ্ধে ১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ফিফা। বাফুফে গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত চিঠি পেলেও এখনো ফুটবলারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি। ফলে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে আল আমিন নিজেও অবগত নন।
বাংলাদেশ জাতীয় দল সাধারণত বছরে সাত থেকে আটটির বেশি ম্যাচ খেলে না। ফলে ১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় দুই বছর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দূরে থাকতে হতে পারে আল আমিনকে। একজন সম্ভাবনাময় ও উঠতি ফুটবলারের ক্যারিয়ারে এটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের ফুটবলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার নজির খুব বেশি নেই। ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাফ গেমসে বাংলাদেশ দলের তৎকালীন অধিনায়ক ইলিয়াস হোসেন রেফারিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বাংলাদেশি ফুটবলারের ক্ষেত্রে ১৫ ম্যাচের মতো বড় নিষেধাজ্ঞার ঘটনা বিরল।
মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচটির শেষ দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মালদ্বীপের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মারমুখী আচরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগও ওঠে। ম্যাচের রেফারিং নিয়েও প্রশ্ন ছিল। বাংলাদেশি ফুটবলার ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ফিফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেও মালদ্বীপের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পায়নি বাফুফে।
বিজ্ঞাপন
জুনের ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশ জাতীয় দল সান মারিনো সফরে থাকলেও একই সময়ে মালদ্বীপে ফিফা স্বীকৃত চার জাতির টুর্নামেন্টে অংশ নেয় বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। শেষ ম্যাচের ঘটনার পর বাফুফে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিল।
তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন তৈরি করলেও আল আমিনের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত আসায় বিষয়টি আবার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ম্যানেজারের জরিমানার অর্থ তিনি নিজে বহন করতে পারেন। তবে মিরাজুল ও আল আমিনের জরিমানার অর্থ বাফুফেকে পরিশোধ করতে হতে পারে।
এদিকে আল আমিনের ১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বাফুফে আপিল করবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।








