৫ বলে ৩ উইকেট, শরিফুলের তাণ্ডবে চাপে অস্ট্রেলিয়া

ম্যাকাই টেস্টে দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। মাত্র ৫ বলের মধ্যে তিন উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের চাপে ফেলেছেন এই বাঁহাতি পেসার।
বিজ্ঞাপন
নিজের নবম ও দলের ৩২তম ওভারে পরপর বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল। পরের ওভারেই মিচেল স্টার্ককে সাজঘরে পাঠান তিনি। ফলে মাত্র পাঁচ বলের ব্যবধানে তিন উইকেট পান শরিফুল। অস্ট্রেলিয়া ১৬৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর চা-বিরতির আগে ৩ উইকেটে ৫০ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। শরিফুলের জোড়া আঘাতে ৪১ রানেই তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি বাংলাদেশকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলে। শেষ পর্যন্ত সেই জুটিও ভাঙেন শরিফুল।
দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলাররা অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলার আভাস দেন। তৃতীয় ওভারে ম্যাট রেনশকে স্লিপে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। জেক ওয়েদারাল্ডের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া রেনশ মাত্র ৮ রান করে ফেরেন। ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
বিজ্ঞাপন
এরপর অষ্টম ওভারে আক্রমণে আসেন শরিফুল। দ্বিতীয় বলেই অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ট্র্যাভিস হেডকে ফেরান তিনি। ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হওয়া হেড করেন ২২ রান। চার বল পরই দ্বিতীয় শিকার ধরেন শরিফুল। মাত্র ৯ বলে ৪ রান করে বোল্ড হন মার্নাস লাবুশেন। ৪১ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে মিচেল স্টার্কের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল। ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ রান করার পর বল হাতেও শুরুটা করেন দারুণভাবে।
বিজ্ঞাপন
শেষ সেশনে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ৭৭ রানের জুটি ভাঙেন শরিফুল। স্মিথের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর আবেদন করলে আম্পায়ার বাংলাদেশের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন। রিভিউ নিলেও আম্পায়ার্স কলে সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ৬টি চারে ৭৪ বলে ৪২ রান করে ফেরেন স্মিথ। ১১৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
এরপর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে লিড বাড়ানোর চেষ্টা করেন অ্যালেক্স ক্যারি। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হাসান মাহমুদের ক্যাচ হয়ে ৫ রানেই ফেরেন ক্যারি। ২৭ রানের এই জুটি ভাঙার পর দ্রুত ব্যাটিং ধসে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
মাত্র তিন রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। শরিফুলের পরের ওভারেই গোল্ডেন ডাকের শিকার হন বেউ ওয়েবস্টার। এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত রিভিউ করেও বদলাতে পারেননি তিনি।
বিজ্ঞাপন
এর দুই বল পর প্যাট কামিন্সকেও ফিরিয়ে দেন শরিফুল। লিটন দাসের ক্যাচে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।
এরপর বাংলাদেশের ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া মিচেল স্টার্ককেও নিজের শিকারে পরিণত করেন শরিফুল।








