ঈদের তৃতীয় দিনেও ফাঁকা মৌলভীবাজারের পর্যটন কেন্দ্র

চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ঈদের তৃতীয় দিনেও পর্যটকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। জেলার জনপ্রিয় পর্যটন স্পট, হোটেল-রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এবার ঈদুল আজহার ছুটিতে আশানুরূপ ভিড় না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বিজ্ঞাপন
মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে ৯২টি চা-বাগান ও শতাধিক পর্যটন স্পট। সাধারণত ঈদসহ দীর্ঘ ছুটিতে এসব এলাকায় পর্যটকের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। তবে এবার আগাম বুকিং কম থাকা এবং শেষ মুহূর্তেও পর্যটক না বাড়ায় অনেক হোটেল-রিসোর্টে অর্ধেকের বেশি কক্ষ ফাঁকা রয়েছে।
সরেজমিনে বড়লেখার হাকালুকি হাওর, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাইক্কা বিল, হাইল হাওর, টি রিসোর্ট ও টি মিউজিয়াম, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধসহ বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় কিছু দর্শনার্থী থাকলেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
বিজ্ঞাপন
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত ঈদের সময় এসব এলাকায় আগাম বুকিং পূর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু এবার ট্রেন টিকিট সংকট, ঈদের ছুটি কম থাকা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের কারণে পর্যটক আসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক শিলা বলেন, “মৌলভীবাজারে অনেকবার এসেছি, তবে এবার আগের মতো ভিড় নেই। প্রকৃতি উপভোগ করার মতো পরিবেশ থাকলেও পর্যটকের সংখ্যা খুবই কম।”
আরেক পর্যটক তাহমিনা লিজা জানান, পর্যটনকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা যেমন বিশুদ্ধ পানি, পরিষ্কার ওয়াশরুম ও বসার জায়গা আরও বাড়ানো দরকার।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটক কম থাকায় আয়ের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। আনারস বিক্রেতারা বলেন, সাধারণত ঈদের সময় পর্যটকের ভিড়ে ভালো বিক্রি হলেও এবার বিক্রি কম হওয়ায় অনেক পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একটি রিসোর্টের পরিচালক পংকজ ভট্টাচার্য জানান, ঈদের আগাম বুকিং প্রত্যাশিত না হওয়ায় অনেক কক্ষ এখনো খালি রয়েছে, ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে বাস উল্টে খাদে, গুরুতর আহত ১৭
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, এবার বুকিং হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশের মতো, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল টুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ। উপজেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দের সময়েও পর্যটননির্ভর মৌলভীবাজারে এবার নেমেছে নিস্তব্ধতা, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।








