Logo

ঈদের ছুটিতেও কুয়াকাটায় পর্যটকের খরা, হতাশ পর্যটন ব্যবসায়ীরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কলাপাড়া, পটুয়াখালী
২৯ মে, ২০২৬, ১৫:৪৬
ঈদের ছুটিতেও কুয়াকাটায় পর্যটকের খরা, হতাশ পর্যটন ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটায় এবার ব্যাপক পর্যটক সমাগমের আশা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও প্রত্যাশিত ভিড় না থাকায় হতাশা নেমে এসেছে পুরো পর্যটন খাতে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে শুক্রবার (২৯ মে) দেখা যায়, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্ট, কিটকট এলাকা ও গঙ্গামতির চর অনেকটাই ফাঁকা। বিগত বছরের ঈদ মৌসুমের তুলনায় এবার পর্যটকের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যেসব পর্যটক এসেছেন, তাদের অধিকাংশই আশপাশের এলাকার ডে-ট্রিপ পর্যটক—যারা সকাল বা দুপুরে এসে বিকেলের মধ্যেই ফিরে যাচ্ছেন।

ফলে সৈকতের হোটেল-মোটেলগুলোতে রাতযাপনের পর্যটক সংখ্যা খুবই কম। একই চিত্র দেখা গেছে পর্যটননির্ভর খাবার হোটেল, ঝিনুক মার্কেট, শুঁটকি পল্লী ও রাখাইন মার্কেটেও। ক্রেতা ও পর্যটক সংকটে অনেক ব্যবসায়ী অলস সময় পার করছেন।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে তারা আগে থেকেই হোটেল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, বিশেষ ছাড় ঘোষণা এবং পর্যটক বরণে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, “অতীতে ঈদের সময় যেখানে হোটেলে জায়গা পাওয়া যেত না, এবার সেখানে বুকিং খুবই কম। বড় হোটেলগুলোতে ২০-৩০ শতাংশ এবং মাঝারি হোটেলে ১০-২০ শতাংশের বেশি বুকিং হয়নি।”

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মোতালেব শরীফ বলেন, “দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত থাকলেও আশানুরূপ ভিড় হয়নি। তবে আমরা এখনো আশা করছি, ছুটির শেষ দিকে কিছুটা পর্যটক বাড়বে।”

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও ভ্রমণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এবার মানুষ ভ্রমণ পরিকল্পনা কমিয়েছে। ফলে দীর্ঘ ছুটি থাকা সত্ত্বেও পর্যটকের প্রত্যাশিত ঢল নামেনি।

অন্যদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে পর্যটন খাতের এই খরা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, যদিও তারা এখনো শেষ মুহূর্তে পর্যটক বাড়ার আশায় আছেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD