বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ভাঙ্গায় আন্দোলন স্থগিত

ফরিদপুরের সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেছেন আন্দোলনকারীরা।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক ঘোষণায় তারা জানান, জেলা প্রশাসনের আশ্বাস এবং দুর্গাপূজার সময়ে জনদুর্ভোগ এড়াতে আগামী শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সকল অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।
আন্দোলন সমন্বয়ক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রশাসনের অনুরোধে আজ দুপুর ১২টার পর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে আগামী রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে পুনরায় লাগাতার কর্মসূচি শুরু হবে বলে ঘোষণা দেন তারা।
বিজ্ঞাপন
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে বলেন, স্থগিত থাকার এই সময়ের মধ্যে কোনো নেতা-কর্মীকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করা হলে, তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর গেজেটের মাধ্যমে ৩০০ আসনের সীমানা নির্ধারণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এতে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করা হয়েছে। এরপর থেকেই ভাঙ্গায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত পরশুদিন থেকে তিন দিনের সকাল-সন্ধ্যা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন স্থানীয় জনতা। গতকাল দ্বিতীয় দিনে এই কর্মসূচি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বিজ্ঞাপন
এদিন, বেলা ১১টার দিকে ভাঙ্গায় ঢাকা-খুলনা ও ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের অন্তত ৬টি পয়েন্ট অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এ সময়, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে, দু’পাশেই চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। এতে বন্ধ হয়ে যায় ভাঙ্গা হয়ে ঢাকার সাথে ২১ জেলার যান চলাচল। ভোগান্তিতে পড়েন এ রুটের যাত্রী ও চালকরা। আটকা পড়ে পণ্যবাহী যানবাহনও।
পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে, বিক্ষুব্ধরা ভাঙ্গা থানা, উপজেলা পরিষদ, নির্বাচন অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান এবং আগুন দেন। স্থানীয়রা জানায়, সংঘর্ষে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত ১২শ সদস্য।








