শ্রীপুরে গোসিঙ্গা খেয়া ঘাটে দেশের অন্যতম বৃহৎ বাঁশের হাট

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রতি বুধবার বসে দেশের অন্যতম বৃহৎ বাঁশের হাট। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘গোসিঙ্গা খেয়া ঘাট বাঁশের হাট’ নামে এ বাজার চার দশকেরও বেশি সময় ধরে জেলার অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে টিকে আছে।
বিজ্ঞাপন
শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়জুড়ে প্রায় এক একর জায়গায় বসা এই হাটকে ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা ঘুরছে প্রতিনিয়ত। শুধু একটি বাজার নয়, হাজারো মানুষের জীবিকার ভরসাস্থল এটি। প্রতি সপ্তাহে এখানে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার বাঁশ কেনাবেচা হয়। মাস শেষে এর অঙ্ক দাঁড়ায় দেড় কোটিরও বেশি টাকায়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার বাঁশ সরবরাহ করা হয় কুমিল্লাসহ দেশের অন্তত ১৫টি জেলায়।
হাটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কর্মসংস্থান। বাজারের দিনে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ বাঁশ আনা-নেওয়া, নদীতে ভাসানো, ট্রলার ভরাট ও খালাসের কাজের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকেন।
বিজ্ঞাপন
গাজীপুরের উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া বাঁশ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় জেলায় বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আছে অন্তত ৬৫ হাজার বাঁশঝাড়। একটি ঝাড় থেকে বছরে গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি বাঁশ পাওয়া যায়। ফলে হাটের দিন সকাল থেকেই বাঁশবাহী ট্রলার ভিড়তে শুরু করে শীতলক্ষ্যার ঘাটে।
বাঁশের দাম আকারভেদে পাইকারি বাজারে ১২৫ থেকে ২২৫ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে। বড় আকারের বাঁশ বিক্রি হয় ৪০০ টাকাতেও। ঘরবাড়ি নির্মাণ, পানের বরজ, সবজির মাচা, মাছ ধরার সরঞ্জাম, আসবাবপত্র থেকে শুরু করে আধুনিক গৃহসজ্জার সামগ্রী তৈরিতেও এখানকার বাঁশ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল সাত্তার মোড়ল বলেন, “প্রতি বুধবার এ হাট বসে। এক দিনে প্রায় ২০-৩০টি ট্রলার বাঁশ এখান থেকে বের হয়। প্রতিটি ট্রলারে গড়ে ১০ লাখ টাকার বাঁশ থাকে।”
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ধান গবেষণায় ৫৫ বছর: ব্রিতে উৎসবের আমেজ
গোসিঙ্গা গ্রামের প্রবীণ ব্যবসায়ী সাব্বির আলম মীর বলেন, “৩৫ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। আকারভেদে প্রতিটি বাঁশ ১০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। মাসে দেড় কোটি টাকার বাঁশ কেনাবেচা হয় এখানে।”
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল প্রধান জানান, “বাজারটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে ভেতরে হওয়ায় বাঁশ পরিবহনে সমস্যা হয়। আবার সরকারি প্রকল্পে বাঁশের ব্যবহার কমে যাওয়ায় আগের মতো দামও আর নেই।”
বিজ্ঞাপন
গোসিঙ্গা বাজারের ইজারাদার আক্তারুজ্জামান খান বলেন, “প্রায় ৪০ বছর ধরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এই হাট বসছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বেপারীরা এসে বাঁশ কিনে নিয়ে যান। মাস শেষে বিক্রির পরিমাণ দেড় কোটি টাকার বেশি হয়।”
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, “গোসিঙ্গার এই বাঁশের হাট শুধু গাজীপুর নয়, আশপাশের জেলার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রতি মাসে দেড় কোটি টাকার বেশি বাঁশ বেচাকেনা হয়ে থাকে।”
দেশের অন্যতম বৃহৎ বাঁশের এই হাটকে কেন্দ্র করে শ্রীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতি যেমন চাঙা হয়েছে, তেমনি কর্মসংস্থানের বড় একটি ক্ষেত্রও তৈরি হয়েছে।








