কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে প্লাবন

কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন, এবং উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের প্রায় দুই হাজার পরিবার বর্তমানে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক পরিবার গৃহপালিত পশু ও ছোট শিশুদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন।
একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও গঙ্গাধর নদীর পানিও ক্রমেই বাড়ছে, ফলে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আমন ধান ও শীতকালীন সবজি খেত ডুবে যাওয়ায় কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে জানান, “ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৯টায় কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তাই বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা আপাতত নেই।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, কয়েক দিনের মধ্যেই পানি নেমে যাবে
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৬৬ সেন্টিমিটার নিচে এবং ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম সদর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাব খাঁ গ্রামের বাসিন্দা উকিল উদ্দিন বলেন, এবছরের সবথেকে বড় বন্যা তিস্তায় শুরু হয়েছে। তিস্তার পাড় উপচে পানি বসতভিটায় প্রবেশ করেছে। চরাঞ্চলের অনেক বসতবাড়িতে চার ইঞ্চি থেকে হাঁটু পরিমান পানি উঠেছে। ধান খেত তলিয়ে গিয়ে শীষ অবদি পানি হয়েছে। বন্যার পানি স্থায়ী হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
বিজ্ঞাপন
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান বলেন,গতকাল তিস্তায় পানি বৃদ্ধি শুরু হলে স্থানীয় মেম্বারদের মাধ্যমে চরাঞ্চলের ঝুকিপূর্ণ কয়েকটি পরিবারকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে আমাদের উদ্ধার কর্মী ও নৌকা প্রস্তুত আছে। এছাড়াও আমরা পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী রেখেছি।








