জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহতের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে শহিদুল ইসলাম (৩৭) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
যদিও বিজিবির দাবি—শহিদুল আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে ভারতের কৃষ্ণনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সীমান্তের ৭০ নম্বর মেইন পিলার এলাকার বর্ডার জোনে এ ঘটনা ঘটে। বিজিবির ভাষ্য, একদল মাদককারবারী ভারতের ভেতরে ২০০ গজ প্রবেশ করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় শহিদুল ইসলাম হাসুয়া হাতে বিএসএফের ওপর চড়াও হলে আত্মরক্ষার্থে তারা এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে, যাতে শহিদুল আহত হন।
বিজ্ঞাপন
বিজিবির মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, “বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা জানতে পেরেছি—শহিদুলকে আহত অবস্থায় কৃষ্ণনগর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
অন্যদিকে নিহত শহিদুল ইসলামের পরিবার সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করছে। তার বাবা নস্কর আলী বলেন, “আমার ছেলে কোনো মাদককারবারী নয়। গরুর জন্য ঘাস আনতে সীমান্তে গেলে বিএসএফ তাকে আটক করে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করেছে। ভারতের পরিচিতজনেরাও ফোনে নিশ্চিত করেছে সে মারা গেছে।”
পরিবারের এই অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, একজন নিরীহ কৃষিশ্রমিককে বিনা কারণে হত্যা করা হয়েছে। গ্রামজুড়ে শোক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে এলাকাবাসী স্বচ্ছ তদন্ত ও নিহতের মরদেহ দ্রুত ফেরত আনার দাবি জানিয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের চেষ্টা চলছে এবং সত্য উদঘাটনে দুই পক্ষের মধ্যেই যোগাযোগ অব্যাহত আছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।








