Logo

খুলনা আদালত এলাকায় সিনেম্যাটিক স্টাইলে ডাবল মার্ডার

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
খুলনা
৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১৮:৪২
খুলনা আদালত এলাকায় সিনেম্যাটিক স্টাইলে ডাবল মার্ডার
ছবি: সংগৃহীত

খুলনার আদালতপাড়া রোববার দুপুরে পরিণত হয় রক্তক্ষয়ী ঘটনার কেন্দ্রস্থলে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে মানুষে ঠাসা আদালত চত্বরে হঠাৎ অস্ত্রধারী একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দুই যুবকের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ধারালো অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।

বিজ্ঞাপন

নিহত দুই যুবক হলেন ফজলে রাব্বি রাজন ও হাসিব হাওলাদার। রাজন রূপসার বাগমারার দক্ষিণ ডাঙ্গা এলাকার ইজাজ শেখের ছেলে এবং হাসিব নগরীর নতুন বাজার এলাকার মান্নান হাওলাদারের ছেলে। দু’জনই খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী শেখ পলাশের অনুসারী বলে জানা গেছে।

ঘটনা যেভাবে ঘটেছে

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে রাজন ও হাসিব সেদিন মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসেন। হাজিরা শেষে আদালতের প্রধান ফটক দিয়ে বের হওয়ার মুহূর্তেই ৬–৭ জন সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে রাজনের ঘাড়ে চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। এরপর আরেকজন সন্ত্রাসী তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। একই সময় আরেক সন্ত্রাসী হাসিবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

বিজ্ঞাপন

গুলি লেগে দু’জন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আতঙ্কে আশপাশের মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে সন্ত্রাসীরা আরও কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে পূর্বপাশের সড়ক দিয়ে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের সময় আদালত ভবনের বারান্দায় অবস্থানরত কয়েকশ মানুষের চোখের সামনেই ঘটে সবকিছু। একজন প্রত্যক্ষদর্শী মোবাইলে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, আদালত চত্বরে সীমানা প্রাচীরের পাশে পড়ে থাকা এক যুবককে রামদা দিয়ে কুপিয়ে যাচ্ছে এক সন্ত্রাসী। আশপাশে পিস্তল হাতে আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী দাঁড়িয়ে থাকে। পরে তারা দলবেঁধে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

বিজ্ঞাপন

আইনজীবী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোনাডাঙ্গা থানার একটি অস্ত্র মামলার হাজিরায় অংশ নিতে রাজন ও হাসিব আদালতে যান। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬–৭ জন সন্ত্রাসী আগেই সার্কিট হাউজ ও আশপাশের এলাকায় ওঁত পেতে ছিল। হাজিরা শেষে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।

খুলনা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, রাজন শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশের সহযোগী। অস্ত্রসহ কমপক্ষে ছয়টি মামলায় তার নাম রয়েছে। হাসিবও ওই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। চার্জশিটেও দু’জনের নাম ছিল; এ কারণেই তারা একসঙ্গে আদালতে যান।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, রনি চৌধুরী ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ গ্রুপ এবং পলাশ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত চলছে। এই দ্বন্দ্বের জেরে অতীতেও একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এমনকি কিছুদিন আগে কারাগারের ভেতরেও দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যার পর তাদের দেশের বিভিন্ন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ বলছে, পুরোনো এই দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় আদালতপাড়ায় হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD