ছাগল চোর ধরে উল্টো জেলহাজতে স্থানীয়রা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের হোসেন মার্কেট এলাকায় স্থানীয়রা ছাগলসহ চোর ধরে গণধোলাই দেয়।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় চোরের বড় বোন পারুল আক্তার বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে তিনজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে মির্জাপুর থানার এসআই।
মামলার বাদী পারুল আক্তার (৩২) উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের বান্দরমারা গ্রামের পাষান মিয়ার মেয়ে। পারুলের ভাই সাদ্দাম হোসেন ছাগল চুরি করে ধরা পড়ে এবং গণধোলাইয়ের শিকার হয়।
জানা যায়, সেদিন সাদ্দামের সহযোগী হিসেবে আরেকজন ছিল কিন্তু বর্তমান সে কোথায় আছে কেউ জানে না।
বিজ্ঞাপন
গত শনিবার (২২ নভেম্বর) বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে হোসেন মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামুদপুর থেকে ছাগল চুরি করে অটোরিকশাযোগে হোসেন মার্কেট হতে গোড়াইয়ের দিকে নিয়ে গেছে এমন খবর পেয়ে স্থানীয়রা অটোরিকশাটি রাস্তায় বাঁধা দিলেও অটো থামেনি। পরে অটোর পেছনে ধাওয়া করে গোড়াই সৈয়দপুর এলাকায় গিয়ে ছাগলসহ চোর আটক করে হোসেন মার্কেট নিয়ে আসে।
বিজ্ঞাপন
এই খবর জানাজানি হলে পূর্বে যাদের ছাগল চুরি হয়েছিল তারা এসে উপস্থিত হয়। পরে চুরির সত্যতা মিললে চোরের বোন পারুল আক্তার উক্ত ভুক্তভোগীদের জরিমানা বাবদ বিকাশের মাধ্যমে বিশ ২০ হাজার টাকা দিয়ে ভাইকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন: ডিমলায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধার
পরবর্তীতে চোরের বোন পারুল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায় থানা পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
মামলার বিবাদীদের পক্ষ থেকে জানা যায়, পারুলের ভাই ছাগল চুরি করেছে, ধরাও পড়েছে ও স্বীকারও করেছে।
এলাকাবাসী হিসেবে আমরা সবাই মিলে তাকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছি। এখন উল্টো আমাদের নামে মামলা করেছেন এবং তিনজন জেলহাজতে রয়েছে।
মাহবুব নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ মারধর করেছে এমন অভিযোগ উঠেছে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে।
বিজ্ঞাপন
মামলার বাদী ও পারুল আক্তার বলেন, আমার ভাই অটোরিকশা চালক। সে তো চুরি করতে পারে না। ছাগল কোথায় থেকে আসল, কে নিয়ে আসল জানে না তার ভাই।
লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন রনি বলেন, জাল টাকার ব্যবসা, মাদক ব্যবসাসহ এ টু জেড এমন কোনো কাজ নেই যা পারুল করে না। তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে তাকেই ফাঁসিয়ে দিয়ে মামলার ভয় দেখায়। সে আমার নামেও মামলা দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। তার ভাই হত্যা মামলার আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে এসআই প্রদীপ চন্দ্র সরকার বলেন, চাঁদাবাজি মামলার দায়ে তাদের গ্রেফতার করেছি।








