জামালপুরে হাজতী মৃত্যু ঘটনায় কারাগারে পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি

জামালপুরে হাজতী মৃত্যুর ঘটনায় কারাগার পরিদর্শন করেছে তদন্ত কমিটি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় তদন্ত কমিটির সভাপতি ও জামালপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম. আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ, সদস্য ও জামালপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন, সদস্য সচিব ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: স্বাগত সাহা কারাগারে প্রবেশ করে তদন্তের কার্যক্রম শুরু করেন।
এদিকে সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে জামালপুর জেলা কারাগারে দর্শনার্থীর প্রবেশ করলেও সাংবাদিকদের প্রবেশে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি কারাগারের জেলার লিপি রানী সাহা। ফলে জেলায় কর্মরত কোন সাংবাদিকই জেলা কারাগারের মুল ফটকে যেতে পারেনি।
দুপুর ৩ টায় তদন্ত কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম. আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ কারাগার থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের জানান, জামালপুরের জেলা প্রশাসক ১০ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন চেয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করায় আমরা আজ প্রথমবার কারাগার পরিদর্শন করে আসলাম। প্রাথমিক তদন্তে কারা কতৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রতিবেদন যখন দিব সে সময় আপনারা সবাই জানবেন।
বিজ্ঞাপন
তদন্ত চলাকালীন সময়ে কোন মন্তব্য করা যায় না। এ ঘটনায় কারাগারের কাউকে জড়িত পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, তদন্ত করা হয় প্রকৃত বিষয় জানার জন্য। তদন্তে কারাগারের কাউকে জড়িত পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে কারাগারের ভেতরের ২নং ওয়ার্ডে ঘুমন্ত অবস্থায় দেওয়ানগঞ্জ চেংটিমারী এলাকার ইমান হোসেনের ছেলে হাজতী হযরত আলীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত তারিখে অপর হাজতী বকশীগঞ্জের দত্তের চর এলাকার মরহুম ছামিউল হকের ছেলে রহিদুর মিয়াকে প্রধান আসামী করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন জেলার লিপি রানী সাহা।
বিজ্ঞাপন
কঠোর নিরাপত্তার মাঝে কাঠের টুকরা ভিতরে কিভাবে গেছে তা নিয়েও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে লক আপ এর আগ মুহুর্তে প্রত্যেক ওয়ার্ড চেক দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঘটনারদিন বিকালের হাবিলদার ও প্রধান কারারক্ষী আব্দুল আওয়াল কোন ওয়ার্ডেই চেক করেনি। তার দায়িত্ব অবহেলার কারণে এমন ঘটনা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় রাত ৩ টা থেকেও ডিউটিতে ছিলেন আব্দুল আওয়াল।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা কারাগারের জেলার লিপি রানী সাহার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।








