যমুনার চলাঞ্চলের তৈরি আখের গুড়ের চাহিদা বাড়ছে দেশজুড়ে

শীত মৌসুম এলেই গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি ঘরে ঘরে তৈরি হয় পিঠা,পায়েস,পুলিসহ বাহারী রকমের সুস্বাদু খাবার। আর এ খাবারগুলো তৈরিতে আখের গুড়ের জুড়ি মেলা ভার। আর তাই তো সিরাজগঞ্জের যমুনার চরাঞ্চলে আখের রস দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু আখের গুড়। যার চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে।
বিজ্ঞাপন
সিরাজগঞ্জের আখের রস দিয়ে তৈরি গুড় সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাশ্ববর্তী জেলা জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় করা হয়।
স্থানীয় আখের গুড় ব্যবসায়ী মোঃ আঃ রাজ্জাক (৬৫) বলেন, বাপ দাদার আমল থেকে প্রতি বছর ৫/৬ মাস এ ব্যবসা করে থাকেন। প্রতি বছর আখের মৌসুমে আখের ক্ষেত কিনে সেই আখের রস দিয়ে গুড় তৈরি করে জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় পাইকারদের কাছে বিক্রয় করে থাকেন। প্রতিমন গুড় ২৭শ থেকে ২৮শ টাকায় পাইকারী দরে বিক্রি করা হয়। তাতে সকল খরচ বাদে প্রতি মন গুড়ে ২/৩শ টাকা লাভ করে থাকে।
বিজ্ঞাপন
গুড় তৈরির কারিগর আলহাজ্ব বেলালসহ বেশ কয়েকজন কারিগর জানান, প্রতিদিন ক্ষেত থেকে আখ সংগ্রহ করে তা মেশিনে ভাঙ্গিয়ে রস করে তা বড় চুলায় জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়। দিন দিন গুড়ের চাহিদা বাড়ায় প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ কাজ করা হয়। এতে তাদের প্রতিদিন ৬ থেকে ৮শ টাকা আয় হয়ে থাকে। তা দিয়ে তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে,এম মুনজুরে মাওলা বলেন, এবার জেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬শ হেক্টর আখ চাষ অর্জিত হয়েছে। সাদা চিনির চাহিদা কমাতে এবং দেশী চিনি ও আখের গুড়ের উৎপাদন বাড়াতে এবার জেলায় ১২০জন কৃষককে আখের চারা বা বীজসহ অন্যান্য উপকরণ প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জে রং বিলাস ও ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ করা হচ্ছে। যা শিশুর ব্রেন ডেভেলপমেন্ট ও স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এ জেলার তৈরি আখের গুড় সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বানিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হয়।








