লক্ষ্মীপুরে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষ: পাল্টাপাল্টি মামলায় ৩৮৭ জন আসামি

লক্ষ্মীপুরে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুই পক্ষ মিলিয়ে মোট ৩৮৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জামায়াতের পক্ষে যুব বিভাগের নেতা হেজবুল্লাহ সোহেল এবং বিএনপির পক্ষে কর্মী কামাল হোসেন বাদী হয়ে পৃথক মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, হামলার অভিযোগে চরশাহী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত যুববিভাগের সভাপতি হেজবুল্লাহ সোহেল বাদী হয়ে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও ১৬০ জনকে। অপরদিকে একই ঘটনায় বিএনপি কর্মী কামাল হোসেন ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে চরশাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বটগাছতলা এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।
এদিকে শনিবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি বিষয়ে এক অবহিতকরণ সভা করেন। সভায় চরশাহী এলাকার সংঘর্ষের বিষয়টি উঠে এলে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক উভয় পক্ষকে আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জামায়াতের কর্মীরা মহিলা সভার নামে ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিলেন। এতে বাধা দিতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, তাদের মহিলা কর্মীদের একটি কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। বিষয়টি মীমাংসা হলেও পরে জামায়াতের পুরুষ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জামায়াতের লোকজন ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিলেন, সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। তিনি বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যেই অপরাধপ্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমি বিএনপির আহতদের পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গেও দেখা করেছি। প্রশাসনের কাছে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।








