Logo

সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, জানতে চাইলে ক্ষুব্ধ হন ডা. শাহীন

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
মধুখালী, ফরিদপুর
২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৫:৩৩
সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, জানতে চাইলে ক্ষুব্ধ হন ডা. শাহীন
ছবি: প্রতিনিধি

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় সিজার অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই সিজার অপারেশন করানো হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহত প্রসূতির স্বজনরা।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুযায়ী, মধুখালী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত উপশম ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক মো. মঈনুল ইসলাম শাহীন (ডা. শাহীন) বিএমডিসি অনুমোদনের মেয়াদ উত্তীর্ণ থাকা সত্ত্বেও সিজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন করে আসছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে তাঁর আচরণও প্রায়ই অসৌজন্যমূলক, যার কারণে এলাকায় তিনি ‘উগ্র ডাক্তার’ নামে পরিচিত।

নিহত প্রসূতি সুমাইয়া (২২) উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের মুরাদ মৃধার মেয়ে। গত ২২ ডিসেম্বর স্থানীয় সানজিদা ক্লিনিকে তাঁর সিজার অপারেশন করা হয়। পরিবারের দাবি, অপারেশনের মাত্র ১০ দিন পর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

নিহত প্রসূতির মা শিরিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ডাক্তার শাহীন অবহেলা করে সিজার করেছে এবং আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। সিজারের কয়েকদিন পর থেকেই আমার মেয়ের শরীর থেকে অস্বাভাবিকভাবে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েকে বাঁচানো যায়নি। ঘটনার পর আমাদের চুপ করিয়ে রাখতে টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। আমি এর বিচার চাই।”

এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা। তাঁদের দাবি, সুমাইয়ার মৃত্যুর পর কাউকে না জানিয়ে মরদেহ বরিশালে তাঁর স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে সানজিদা ক্লিনিকের মালিক মিজানুর রহমান প্রথমে দাবি করেন, তাঁর ক্লিনিকে ওই নামে কোনো সিজার হয়নি। তবে পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর ক্লিনিকেই ডা. শাহীন সিজার অপারেশনটি করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শাহীনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি। পরে উপশম ক্লিনিকে গিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহল দাবি করছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD