কাপাসিয়ায় পরিত্যক্ত খামারে ঘোড়া জবাই, মাংসসহ উদ্ধার ৫টি জীবিত ঘোড়া

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মাশক গ্রামে একটি পরিত্যক্ত গরুর খামারে অবৈধভাবে ঘোড়া জবাইয়ের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস ও পাঁচটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোররাত আনুমানিক ২টার দিকে কাপাসিয়া থানা পুলিশের একটি দল ওই খামারে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম মিয়া জানান, গভীর রাতে মো. জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন পরিত্যক্ত খামারে ৪ থেকে ৫টি ঘোড়া জবাই করা হয়। একই সঙ্গে আরও অন্তত ১০টি ঘোড়া জবাইয়ের উদ্দেশ্যে বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়েছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলার আনিসুর রহমান নামে এক ব্যক্তি মাসিক ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে খামারটি ভাড়া নেন। শুক্রবার রাতে সেখানে ঘোড়াগুলো আনা হয় এবং কয়েকটি ঘোড়া জবাই করা হয়। আরও কয়েকটি জবাইয়ের প্রস্তুতিও চলছিল।
কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আতিকুর রহমান জানান, কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করে। একই সঙ্গে পাঁচটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়, যেগুলো বর্তমানে স্থানীয়দের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের একজন ভেটেরিনারি সার্জন ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সকাল ১১টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলেই অবস্থান করছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ডা. আতিকুর রহমান বলেন, দেশে ঘোড়া জবাই আইনত নিষিদ্ধ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জবাইয়ের উদ্দেশ্যেই ঘোড়াগুলো সেখানে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এ বিষয়ে খামারের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গত ৫ আগস্টের পর থেকে একাধিক মামলার মুখে পড়ে তিনি এলাকা ছেড়ে দূরে অবস্থান করছেন। এ সময় তার মিষ্টির শোরুমে অগ্নিসংযোগ এবং বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এমনকি তার বৃদ্ধ মায়ের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন বাড়িতে না থাকার কারণে আমার স্বপ্নের গরুর খামারটি অযত্ন ও অবহেলায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখে আমি চুক্তির মাধ্যমে খামারটি খুলনার আনিসুর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছে মাসিক ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিই। তবে খামার ভাড়া নেওয়ার পর সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলছিল, সে বিষয়ে আমি সম্পূর্ণভাবে অবগত ছিলাম না।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন , আমি এলাকায় না থাকায় এবং পরিবারের সদস্যরাও নিয়মিত সেখানে না থাকায় ঘোড়া জবাইয়ের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ভাড়াটিয়া ব্যক্তি যে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, তা আমি জানতাম না। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
বিজ্ঞাপন
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে বলেন, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।








