জামায়াত কর্মীকে ‘অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর’ চেষ্টা, ৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় শামসুল আরেফিন (৩৫) নামে এক জামায়াত কর্মীকে তুলে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি বারইয়ারহাট এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিংয়ের কাজ করেন। রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় ১০-১২ জন যুবক হঠাৎ তাদের দিকে ধাওয়া করে। পরিস্থিতি বুঝে তার বন্ধু সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে গেলেও তিনি ধরা পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে মারধর করে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়।
শামসুল আরেফিন জানান, গাড়ির ভেতর তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং হাতে একটি অস্ত্র ধরিয়ে বিভিন্নভাবে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চাপ প্রয়োগের পরও কাঙ্ক্ষিত স্বীকারোক্তি না পেয়ে তাকে মুহুরীগঞ্জ বাজার এলাকায় নিয়ে আটকে রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় মো. হোসেন চৌধুরী রাকিব, নুর নবী চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন পাটোয়ারী, মেজবাহ উদ্দিন রুবেল, আইয়ুব নবী, জাহাঙ্গীর আলম ও একরামুল হক তৌহিদ জড়িত। তাদের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন তিনি।
ফেনী-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন বলেন, ভোটের আগে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে মো. হোসেন চৌধুরী রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: বিএনপি-এনসিপির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১৩
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন মিয়া বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শামসুল আরেফিনকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।








