কুষ্টিয়ার মিরপুরে কলেজছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, ৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় এক কলেজছাত্রী অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ—এমন দাবি করেছে পরিবারের সদস্যরা। অপহৃত শিক্ষার্থীকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
অপহৃত জোহানা খাতুনের মা মোছা. রোজিনা খাতুন জানান, তার মেয়ে জোহানা খাতুন (১৭) মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রোজিনা খাতুনের দাবি, একই কলেজের শিক্ষার্থী মোছা. সেতু খাতুনের সঙ্গে জোহানার বন্ধুত্ব ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সেতু দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি মেয়েকে ওই বন্ধুত্ব থেকে বিরত থাকতে বলেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে পোড়াদহ নতুনবাজার এলাকায় কলেজের সামনে পৌঁছালে সেতু খাতুনসহ কয়েকজনের সহায়তায় জোহানাকে ট্রেনে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দুই তরুণী বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারকে জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি।
পরবর্তীতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে মেয়ের খোঁজ চাইলে তারা কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন জোহানার মা। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে মিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
পরিবারের আশঙ্কা, জোহানাকে প্রতারণার মাধ্যমে অন্য কোথাও পাচার করা হতে পারে। একই অভিযোগ তুলে পরিবার সাংবাদিক সম্মেলনও করেছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে দ্রুত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।








