বাইক্কা বিল : প্রবেশে বাধা, পর্যটকদের ক্ষোভ

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের পূর্বাংশে অবস্থিত প্রায় ১৭০ হেক্টর আয়তনের সমৃদ্ধ জলাভূমি বাইক্কা বিল। ২০০৩ সালে চাপড়া, মাগুড়া ও যাদুরিয়া বিল নিয়ে এটিকে স্থায়ী মাছের অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। শীত মৌসুমে দেশ-বিদেশের হাজারো অতিথি পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে এটি বিশেষ পরিচিত।
বিজ্ঞাপন
প্রতি বছর শীতে বিলজুড়ে অতিথি পাখির ঝাঁক দেখা গেলেও চলতি মৌসুমে পাখির সংখ্যা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা। সামাজিক মাধ্যমে আগের বছরের ছবি দেখে অনেকেই বড় প্রত্যাশা নিয়ে এলেও বাস্তবে এসে অনেকে হতাশ হয়েছেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার বাইক্কা বিল পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। এরপর থেকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিলটিতে প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক পর্যটক পাখি না দেখেই ফিরে যাচ্ছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
বিজ্ঞাপন
পর্যটকদের দাবি, পুরো বিল উন্মুক্ত না করে অন্তত নির্দিষ্ট একটি এলাকা দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হোক। এতে পাখির নিরাপত্তা নিশ্চিত রেখেই পর্যটন কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখা সম্ভব।
স্থানীয় গাইড নাহিদ হাসান রনি জানান, বিল বন্ধ থাকায় পাখিরা এখন তুলনামূলক নিরাপদে আসছে। আগে কিছু পর্যটক ঢিল ছোড়া বা চিৎকার-হাল্লার মতো আচরণ করায় পাখি বিরক্ত হতো। তবে তিনি স্বীকার করেন, অনেক দূর থেকে আসা দর্শনার্থীদের হতাশাও বোঝা যায়।
বিজ্ঞাপন
বাইক্কা বিলের বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. মিন্নত আলী বলেন, বিল বন্ধ থাকায় সংগঠনের আয়ের উৎস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আগে ১০ টাকার টিকিট থেকে কিছু আয় হতো, যা দিয়ে বিল পরিচালনার কাজে সহায়তা মিলত। এখন তা না থাকায় কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটন—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নির্দিষ্ট দর্শন এলাকা, সময়সীমা, কঠোর তদারকি ও সচেতনতা কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে বাইক্কা বিলকে আবারও নিয়ন্ত্রিতভাবে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া যায় কি না—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে।








