শাল্লায় প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন নিয়ে টানাপোড়েনে সংবাদ সম্মেলন

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রধান শিক্ষক সমিতি। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে স্থানীয় প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “শাল্লা উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি” নামে একটি কমিটি প্রকাশ করা হয়, যা অধিকাংশ শিক্ষকের কাছে অবৈধ ও স্বঘোষিত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
লিখিত বক্তব্যে তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়— প্রথমত: কেন্দ্রীয় শিক্ষক নেতাদের তথ্যানুযায়ী “বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি” নামে পূর্বে সংগঠন থাকলেও বর্তমানে তার কোনো অস্তিত্ব নেই।
দ্বিতীয়ত: উপজেলায় কেন্দ্রীয় অনুমোদিত প্রধান শিক্ষক সমিতি ও সহকারী শিক্ষক সমিতির পৃথক কমিটি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তাদের না জানিয়ে কিছু শিক্ষক নতুন একটি কমিটি গঠন করেছেন, যা বেআইনি ও অগণতান্ত্রিক বলে দাবি করা হয়।
তৃতীয়ত: শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী উপজেলায় কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা ৪৫১ জন। কিন্তু মাত্র ৫০ জনের উপস্থিতিতে—অর্থাৎ প্রায় ১১ শতাংশ অংশগ্রহণে—এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভায় কয়েকজন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বের হয়ে যাওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। বাকি ৮৯ শতাংশ শিক্ষকের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বক্তারা অভিযোগ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং এর বিরুদ্ধে তারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক অনাদী তালুকদার, মনোজ সরকার খোকন, আব্দুল হামিদ, মোস্তাক আহমদ ও রামলাল দাশ।
বিজ্ঞাপন
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাল্লা উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি অরবিন্দু তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নিরেশ দাশসহ লিটন তালুকদার, অজিত তালুকদার, তপন দাশ, স্বপন রায়, চয়ন চৌধুরী, সজল দাশ, বিজিত তালুকদার, দেবেশ চৌধুরী, অজয় তালুকদার প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি জানানো হয়, শিক্ষক সংগঠন গঠনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।








