Logo

থানচি–চিম্বুক সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন, স্বস্তিতে চালক–পর্যটকরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
থানচি, বান্দরবান
১ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৪
থানচি–চিম্বুক সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন, স্বস্তিতে চালক–পর্যটকরা
ছবি: প্রতিনিধি

বান্দরবান পার্বত্য জেলা দুর্গম থানচি–চিম্বুক সড়কের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অংশে মাসব্যাপী রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর ১৭ ইসিবি ইউনিট।

বিজ্ঞাপন

৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের আওতাধীন ১৭ ইসিবি'র তত্ত্বাবধানে থানচি–চিম্বুক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে থানচি হতে ক্যাফে নীল (কাপ্রু পাড়া) পর্যন্ত এ কাজ গত জানুয়ারির শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়।

বেশকিছু দিন ধরে পাহাড়ি এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙন ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশ থাকায় যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হতো স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ত।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক বাইকার সাব্বির বলেন, গত নভেম্বর মাসে থানচিতে এসেছিলাম। তখন নীলগিরি পার হয়ে জীবননগরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে অসংখ্য গর্ত ছিল। এবার এসে দেখলাম পুরো চিত্র বদলে গেছে। এখন রাস্তা দেখে মনে হচ্ছে মহাসড়ক।

পর্যটকবাহী জীপচালক মানিক মিয়া জানান, বর্ষাকালে গর্তভরা সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে চালকদের চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হতো। তিনি বলেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে থানচি ও নীলগিরি রোডে পর্যটকের চাপ বাড়বে। সময়মতো সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ১৭ ইসিবিকে ধন্যবাদ জানাই।

থানচি থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরের এক গ্রামবাসী জানান, সড়ক সংস্কারের সময় তাদের অনুরোধে গ্রামের পাশে একটি স্পিডব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে দ্রুতগতির গাড়ির কারণে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। এখন স্পিডব্রেকার থাকায় ঝুঁকি অনেক কমেছে। আগের তুলনায় রাস্তা অনেক সুন্দর ও নিরাপদ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১৭ ইসিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নূর মোহাম্মদ সিদ্দিক সেলিম (পিএসসি) সাংবাদিকদের বলেন, থানচি থেকে ক্যাফে নীল পর্যন্ত সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এমনভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা পাহাড়ি রাস্তা বলে মনে হবে না। এটি এখন অনেকটাই নতুন মহাসড়কের মতো। যানবাহন চালক, যাত্রী, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

বিজ্ঞাপন

সড়কটির উন্নয়নের ফলে আসন্ন পর্যটন মৌসুমে থানচি ও নীলগিরি অভিমুখে যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD