দিনমজুরের বুদ্ধিতে রক্ষা পেল ট্রেন, প্রশংসায় ভাসছেন এনামুল হক

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পূর্ব চণ্ডীপুরে এক দিনমজুরের তৎপরতায় বড় ধরনের রেল দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা গেছে। সকালে বাড়ির পাশে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন ৬২ বছর বয়সী দিনমজুর এনামুল হক। হঠাৎ তিনি লক্ষ্য করেন, রেললাইনের প্রায় এক হাত অংশ ভাঙা। এমন পরিস্থিতি দ্রুতগামী ট্রেনের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এনামুল হক আশপাশে কোনো লাল কাপড় না পেয়ে রেললাইনের পাশে থাকা কলাবাগান থেকে কলার মোচা ছেঁড়ে নেন। মোচা থেকে লাল রঙের খোসা খুলে তা লাঠির মাথায় বেঁধে রেখেছিলেন, যেন একটি সংকেতের মতো ট্রেনের চালক দেখতে পান। কিছু সময় পর দক্ষিণ দিক থেকে আসা দ্রুতগামী ট্রেন লাল নিশান দেখে থামে যায়। এই সাহসী ও বুদ্ধিমান কাজের ফলে শতাধিক যাত্রী প্রাণের ঝুঁকি থেকে বেঁচে যান।
স্থানীয়রা বলেন, এনামুল হকের এই মানবিক উদ্যোগে পুরো গ্রাম গর্বিত।
বিজ্ঞাপন
পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ রানা জানান, এনামুল চাচা খুব সহজ-সরল মানুষ। তাঁর সতর্কতা ও দ্রুত চিন্তাভাবনায় ট্রেনটি বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। সবাই তাঁকে প্রশংসা করছে।
এনামুল হক বলেন, সকালে রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় ভাঙা অংশ দেখে খুবই চমকে উঠেছিলাম। ট্রেনের হুইসেল শুনে বুঝতে পারলাম বড় বিপদ হতে চলেছে। রেললাইনের পাশে দৌড়াদৌড়ি করে কলার মোচা ও লাল বাকল দিয়ে সিগনাল তৈরি করেছি। ট্রেন থামার পর খুবই ভালো লাগলো। মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছি।
ফুলবাড়ি রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার শওকত আলী বলেন, স্থানীয়ভাবে খবর পাওয়ার পর রেলওয়ের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙা রেললাইনের অংশ মেরামত করেন। পরে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন নিরাপদে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছাড়ে।
বিজ্ঞাপন
এনামুল হকের সতর্কতা ও দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে রেললাইন মেরামতের আগেই ট্রেন দুর্ঘটনা এড়িয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকার মানুষ তাঁকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন এবং গ্রামজুড়ে তার মানবিক কাজের গল্প প্রশংসার তীর ধরছে।
এই ঘটনা শুধু স্থানীয় নয়, বরং দেশের জন্যও সতর্কবার্তা—সতর্কতা, দ্রুত চিন্তাভাবনা ও সাধারণ মানুষের দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে বড় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব।








