‘বউরে কতবার কইছিলাম তোমরা বাড়ি থাকো, আমি যাই’

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় স্বজন হারানোর আশঙ্কায় স্বামী-স্ত্রীর করুণ গল্প সামনে এসেছে। দুর্ঘটনা থেকে সাঁতরে প্রাণে বেঁচে ফেরা এক যাত্রী স্ত্রীর স্মৃতিচারণ করে বিলাপ করতে থাকেন, যা উপস্থিত সবার হৃদয় ভারাক্রান্ত করে তোলে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে ৫০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
বেঁচে ফেরা ওই যাত্রী জানান, তিনি কুষ্টিয়া থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। সামনে ডিউটি থাকায় তিনি স্ত্রীকে বাড়িতে থাকার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু স্ত্রী তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য অনড় ছিলেন। এখন দুর্ঘটনার পর স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজ থাকায় তিনি ভেঙে পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি কতবার কইছিলাম, তোমরা বাড়ি থাকো, আমি যাই। কিন্তু সে শুনলো না। এখন আমারে ছাইড়া কেমনে চইলা গেলো? আমি কেমনে বাঁচমু?
একই বাসের আরেক যাত্রী আবদুল আজিজুল জানান, তিনিও নদীতে পড়ে যাওয়ার পর সাঁতরে উঠতে সক্ষম হন। তবে তার স্ত্রী ও শিশুসন্তান এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটের পন্টুনে ফেরিতে ওঠার সময় চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারান। ফলে মুহূর্তেই বাসটি নদীতে তলিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পথে রয়েছে এবং তারা উদ্ধার কাজে অংশ নেবে। এছাড়া ঢাকা সদর দপ্তর থেকেও অতিরিক্ত ডুবুরি দল পাঠানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কান্না আর অপেক্ষায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো ঘাট এলাকা।








