স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু, পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য (৩০) ও জহুরা অন্তি (২৭) নামে এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। আজ তাদের একই সাথে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরস্থ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দুপুর আড়াইটার দিকে রাজবাড়ীর শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে স্বামী-স্ত্রীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয় রাজবাড়ী পৌরসভার নতুন বাজার কবরস্থানে।
নিহত কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড সজ্জনকান্দা গ্রামের কাজী মুকুলের ছেলে। তার স্ত্রী জহুরা অন্তি একই এলাকার মৃত ডা. আব্দুল আলীমের মেয়ে এবং একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী ছিলেন। দম্পতির বিবাহ হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে।
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গতকাল ঈদের ছুটি শেষে তারা ঢাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বড়পুল থেকে তারা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে ওঠেন। দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ৭ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটি টেনে তুলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের বড় চাচা কাজী গোলাম আহমেদ বলেন, “আমার সেজো ভাইয়ের একমাত্র ছেলে ও পুত্রবধূ এই দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আমরা বাকরুদ্ধ। ছোটবেলা থেকে আমি সৌম্যকে লালনপালন করেছি, লেখাপড়া করিয়েছি, চাকরি দিয়েছি, বিয়ে দিয়েছি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আজ তাদের শেষ বিদায় দিতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
যদি তাদের কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি তাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন।”
দৌলতদিয়া ঘাটের এই দুর্ঘটনায় গতকাল ২৩ জন ও আজ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এভাবে মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।








