মোহনগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বার নারীর ওপর হামলার অভিযোগ, মৃত সন্তান প্রসব

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় গরু লুটের চেষ্টার ঘটনায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় তার পেটে লাথি মারার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেন। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগকে ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন।
বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় সুয়াইর ইউনিয়নের হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী রোকেয়া আক্তার (৩৮) ওই গ্রামের বাসিন্দা ওলিউল্লাহর স্ত্রী। তার স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল আগামী ১৫ এপ্রিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ মার্চ দুই পক্ষের মধ্যে ছোট একটি ঘটনায় সংঘর্ষ হয়, যেখানে হাঁস লুটের অভিযোগও ওঠে। পরবর্তীতে আংগুর মিয়ার পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে ওলিউল্লাহ ও তার স্বজনরা আসামি হন।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার রাতে প্রথমে পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কাউকে না পেয়ে চলে যায়। পরে রাত সাড়ে ৩টায় আংগুর মিয়াসহ ১৫-২০ জনের একটি দল বাড়িতে হামলা চালায়। গোয়ালঘর থেকে গরু লুটের চেষ্টা করলে অন্তঃসত্ত্বা রোকেয়া বাধা দেয় এবং এ সময় তাকে মারধর করা হয় ও পেটে লাথি মারা হয়।
রোকেয়ার বড় বোন রুয়েলা আক্তার জানান, “হামলার পরপরই বোনের পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। গভীর রাতে যানবাহন না পাওয়ায় স্থানীয় ধাত্রীকে এনে বাড়িতেই প্রসব করানো হয়, যেখানে মৃত সন্তান জন্ম নেয়।” পরে মা ও নবজাতককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে নবজাতককে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং রোকেয়াকে ভর্তি করা হয়।
রোকেয়ার স্বামী ওলিউল্লাহ শুক্রবার বিকেলে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আংগুর মিয়া (৩২), রফিকুল ইসলাম (৩৩), মরিয়ম আক্তার (২৭), তরিকুল মিয়া (৩৫), আনসার মিয়া (২২) ও মজিবর মিয়া সহ মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে অভিযুক্তরা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো দাবি করেছেন। মরিয়ম আক্তার বলেন, “আমি ওই সময়ে শ্বশুরবাড়িতে ছিলাম। অভিযোগ ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।” প্রধান আসামি আংগুর মিয়াও একই দাবি করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষই নিজেদের দাবিতে জোর দিচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে।”
বিজ্ঞাপন
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, নবজাতকের লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার অভিযোগভিত্তিক মামলা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








