শেরপুরে ৯ ফিলিং স্টেশনে ‘ট্যাগ অফিসার’

জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। অবৈধ মজুদ, অতিরিক্ত দামে বিক্রি এবং কৃত্রিম সংকট রোধে উপজেলার সব ফিলিং স্টেশনে শুরু হচ্ছে সরাসরি প্রশাসনিক নজরদারি।
বিজ্ঞাপন
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে শেরপুর উপজেলার ৯টি ফিলিং স্টেশনে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-এর গত ২৮ মার্চের নির্দেশনার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে তেল বিক্রি বন্ধ, খোলা বাজারে বিক্রি ও পাচার রোধে এসব কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন।
বিজ্ঞাপন
নিযুক্ত ট্যাগ অফিসাররা সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের মজুদ ও বিক্রয় কার্যক্রম তদারকি করবেন। তারা প্রতিদিন প্রারম্ভিক ও সমাপনী মজুদ রেকর্ড করবেন এবং ডিপো থেকে সরবরাহকৃত তেল সঠিকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে কি না, তা ডিপ-রড বা ডিপ-স্টিকের মাধ্যমে যাচাই করবেন। পাশাপাশি ডিসপেন্সিং মেশিনের রিডিংয়ের সঙ্গে বিক্রয় রেজিস্টার মিলিয়ে দেখাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিস্ফোরক পরিদপ্তর-এর অনুমোদিত লে-আউট অনুযায়ী মজুদ সক্ষমতা যাচাই, কন্টেইনারে অবৈধ বিক্রি বন্ধ এবং প্রতিটি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্যাশ মেমো প্রদান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিপো থেকে তেল আসার এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শুরু না করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রথমবার সতর্কতা, দ্বিতীয়বার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা এবং তৃতীয়বার লাইসেন্স বা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া প্রতিটি ফিলিং স্টেশনকে দিনে অন্তত তিনবার—সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায়—স্টকের তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতেই এ তদারকি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।








