Logo

শেষবারের মতো একমাত্র সন্তানের মুখটুকুও দেখা হলো না মা-বাবার

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ
১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:৪২
শেষবারের মতো একমাত্র সন্তানের মুখটুকুও দেখা হলো না মা-বাবার
ছবি: সংগৃহীত

স্বপ্ন ছিল পরিবারকে স্বচ্ছলতার পথে এগিয়ে নেওয়ার, বাবার কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই দেশ ছেড়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবু ফাহিম। কিন্তু ইউরোপে পৌঁছানোর আগেই ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউ কেড়ে নিল তার জীবন। শেষ পর্যন্ত সন্তানের মরদেহটুকুও দেখতে পারলেন না বাবা-মা।

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার কবির নগর গ্রামের বাসিন্দা ফাহিম ছিলেন ফয়েজ উদ্দিন ও হেলেনা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান। দেশে স্বচ্ছল জীবনযাপন করলেও পরিবারের আর্থিক অবস্থার আরও উন্নতির আশায় কিছুদিন আগে লিবিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। সেখান থেকেই ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথ বেছে নেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর সঙ্গে একটি ছোট নৌকায় করে লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ফাহিম। কিন্তু মাঝপথে নৌকাটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে পড়ে টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। এ সময় খাবার ও পানির তীব্র সংকটে পড়ে যাত্রীরা। শেষ পর্যন্ত ক্ষুধা ও তৃষ্ণার সঙ্গে লড়াই করতে না পেরে প্রাণ হারান ফাহিম। নিহতদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে কম বয়সী।

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি। শেষ পোস্টে মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করে লিখেছিলেন, “দিন শেষে আমার জন্য কাঁদে, দোয়া করে আমার আম্মু।”

একটি ভিডিওতে মানিব্যাগে রাখা মায়ের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, দেশে থাকতে এক গ্লাস পানিও নিজের হাতে খেতে হয়নি, অথচ প্রবাসে এসে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। তার সেই কথাগুলো এখন পরিবারের কাছে যেন বিদায়ের বাণী হয়ে ধরা দিয়েছে।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা হেলেনা বেগম। আহাজারি করে তিনি বলেন, তার সবকিছুই যেন একসঙ্গে হারিয়ে গেছে। অন্যদিকে, ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন প্রবাসী বাবা ফয়েজ উদ্দিন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং একটি সম্ভাবনাময় তরুণের জীবন এভাবে হারিয়ে যাওয়া সমাজের জন্য বড় ক্ষতি। তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ অভিবাসন থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

ফাহিমের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের গল্প নয়, বরং ইউরোপগামী বিপজ্জনক সাগরপথে পাড়ি জমানো অসংখ্য তরুণের জন্য একটি কঠিন সতর্কবার্তা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD