Logo

স্কুল ফিডিংয়ে নিম্নমানের খাবার, ক্ষোভে ফিরিয়ে দিলেন শিক্ষকরা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:১৪
স্কুল ফিডিংয়ে নিম্নমানের খাবার, ক্ষোভে ফিরিয়ে দিলেন শিক্ষকরা
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসূচির তৃতীয় দিনে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানো কলার বড় একটি অংশ পচা ও অপরিপক্ব হওয়ায় তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরের পর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিস্কুট ও কলা পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে সরবরাহকৃত কলাগুলো ছিল আংশিক পচা ও কাঁচা, যা খাওয়ার অনুপযোগী বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে অনেক বিদ্যালয়ই কলা ফিরিয়ে দেয়।

এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ফলে কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীরা শুধু বিস্কুট পেলেও কলা বিতরণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির শুরু থেকেই খাবার সরবরাহে অনিয়ম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের বানরুটি ও সেদ্ধ ডিম দেওয়া হলেও দ্বিতীয় দিনে দুধ সরবরাহের কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি, শুধু বানরুটি দেওয়া হয়। তৃতীয় দিনে বিস্কুটের সঙ্গে কলা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই কলার মান নিয়েই দেখা দেয় বড় ধরনের সমস্যা।

একজন শিক্ষক জানান, সরবরাহ করা কলার অনেকগুলোই ছিল পচা কিংবা অপরিপক্ব, যা শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। তাই সেগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তৈলারদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পুলক সেস বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা হলেও নিম্নমানের খাবার সরবরাহ সেই লক্ষ্যকে ব্যাহত করছে। নির্ধারিত সময়ে খাবার না পৌঁছানোয় শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী জানিয়েছেন, কয়েকটি বিদ্যালয় থেকে নিম্নমানের কলা সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুরুতে কিছু ত্রুটি দেখা দিলেও তা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্বদেশ পল্লীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সব বিদ্যালয়ে নয়, মাত্র ৮ থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানে কলার মান নিয়ে সমস্যা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিশুদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও কঠোর নজরদারি জরুরি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD