Logo

তেলের সংকটে স্থবির রংপুর-ময়মনসিংহ, বন্ধ অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:০২
তেলের সংকটে স্থবির রংপুর-ময়মনসিংহ, বন্ধ অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের ঘাটতিতে রংপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুই জেলার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। কোথাও ‘অকটেন ও পেট্রোল নেই’ নোটিশ ঝুলছে, আবার কোথাও পাম্পের প্রবেশপথ দড়ি দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ থাকায় মেশিনগুলো অলস পড়ে আছে। কিছু পাম্প আংশিক খোলা থাকলেও সেখানে শুধু সিএনজি চালিত অটোরিকশায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। আর যেসব স্টেশন খোলা রয়েছে, সেগুলোর সামনে দীর্ঘ সারি ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

রংপুরে তেল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

রংপুর মহানগরীতে জ্বালানি সংকট সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভোর থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন চালকরা, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। বেশিরভাগ স্টেশন দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে বা সীমিত পরিমাণে তেল দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় কখন তেল দেওয়া হবে, তা আগে থেকে জানা যাচ্ছে না। ফলে চালকরা এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে সময় ও জ্বালানি দুটোই নষ্ট হচ্ছে।

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করায় প্রতিটি স্টেশন দৈনিক চাহিদার অর্ধেকও পাচ্ছে না। ফলে দুই ঘণ্টার মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে দিনের বেশিরভাগ সময় পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, অনেক স্টেশন থেকে মাত্র ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল সম্ভব নয়। তেলের খোঁজে একাধিক স্টেশন ঘুরতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচও হচ্ছে।

রংপুর মহানগরীতে অর্ধশতাধিক ফিলিং স্টেশন থাকলেও শনিবার সারাদিনে মাত্র একটি স্টেশন ছাড়া প্রায় সবগুলোই তেল সরবরাহ করতে পারেনি। অনেক জায়গায় দেখা গেছে, তেল আসবে—এই খবরে শত শত মোটরসাইকেল দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে।

ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, যেখানে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার লিটার তেলের প্রয়োজন, সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র দুই হাজার লিটার। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

রংপুর জেলা ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির এক কর্মকর্তা বলেন, আগে তেল সরবরাহের সময়সূচি জানানো হলেও এখন তা জানানো হচ্ছে না। এতে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে এবং চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তেলের কোনো সামগ্রিক সংকট নেই। নির্দিষ্ট নিয়মে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

ময়মনসিংহেও একই চিত্র

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন তেল মজুতের অভাবে বন্ধ রয়েছে। চালকরা একের পর এক স্টেশন ঘুরেও তেল পাচ্ছেন না।

নগরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, টানা কয়েকদিন ধরে তেল না থাকায় সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। স্টেশনগুলোতে চালকরা এসে ফিরে যাচ্ছেন হতাশ হয়ে।

বিজ্ঞাপন

একাধিক স্টেশন ম্যানেজার জানান, তেল সরবরাহের জন্য ডিপোতে গাড়ি পাঠানো হয়েছে, তবে কখন তা আসবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ফলে স্টেশন খুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে যেসব স্টেশনে অল্প পরিমাণ তেল এসেছে, সেখানে ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। চালকরা তেল পাওয়ার আশায় ভিড় করছেন, ফলে যানজটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

রংপুর ও ময়মনসিংহে জ্বালানি তেলের এই সংকট জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন খাতসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD