Logo

বহিষ্কারের পর মুখ খুললেন ছাত্রদল নেতা, বললেন ‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নই’

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:৫৭
বহিষ্কারের পর মুখ খুললেন ছাত্রদল নেতা, বললেন ‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নই’
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক নেতাকে ঘিরে জেন্ডার সংক্রান্ত বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য গোপনের অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পর ওই নেতা নিজেই সামনে এসে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বহিষ্কৃত নেতা রেদোয়ান ইসলাম দাবি করেছেন, তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ট্রান্সজেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব। তিনি নিজেকে একজন পুরুষ হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।

রবিবার (৫ এপ্রিল) জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলামকে সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং ব্যক্তিগত তথ্য গোপনের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান ও সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী এ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন।

বিজ্ঞাপন

তবে একইদিন রাতে ‘রিহিয়া রিহি’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া পোস্টে রেদোয়ান ইসলাম নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন, বরং একজন সাধারণ ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একজন সংস্কৃতিকর্মী।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিছু কনটেন্টের কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। ইতোমধ্যে সেসব কনটেন্ট মুছে ফেলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার কথাও জানান তিনি। একইসঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানান, কারণ এতে একজন মানুষের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে রেদোয়ানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম জানান, পুরো ঘটনাটি গুজবের ওপর ভিত্তি করে ছড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকাভিত্তিক কিছু কনটেন্ট নির্মাতাদের মতো রেদোয়ানও সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করতেন। এসব ভিডিও নিয়েই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পরিবার থেকে এমন কর্মকাণ্ডে সমর্থন ছিল না বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রেদোয়ান বাড়ির বাইরে রয়েছেন। ছেলে থেকে মেয়েতে রূপান্তরের যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল বলে দাবি করেন তিনি।

জেলা ছাত্রদলের একটি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার সৈয়দাবাদ সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একটি আংশিক কমিটি গঠন করা হয়, যা পরে ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়া হয়। পরদিন ফেসবুকে কমিটির তালিকা প্রকাশের পর রেদোয়ান ইসলামকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আগে সংশ্লিষ্ট সবার জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেখানে রেদোয়ান ইসলাম নিজেকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু পরে তার সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য সামনে আসার দাবি করে তিনি বলেন, তথ্য গোপনের অভিযোগেই তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD