কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গ্রামবাসী

হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদী-এর কালনী শাখায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সাহানগর গ্রামের শতাধিক পরিবার নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই বছরে নদীভাঙনে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। সম্প্রতি ভাঙন আরও তীব্র হয়ে কারও বাড়ির আঙিনা, আবার কারও দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে। প্রতিদিনই নদী তীরবর্তী বসতভিটা ও গাছপালা ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছে।
এর আগে একই এলাকার উমেদনগর, কন্যাজুরি, নজরাকান্দা, কাদিরপুর, সৌলরী, মনিপুর, বদরপুর ও কালনীপাড়ার বহু ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাহানগর গ্রামের প্রায় দেড়শ মিটার এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে ৮ থেকে ১০টি পরিবারের বসতঘর, গাছপালা ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় আরও ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক লিটন রায় বলেন, “সাম্প্রতিক অতিবর্ষণের কারণে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমরা নিজেরা বিভিন্নভাবে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও কোনো ফল পাচ্ছি না।”
স্থানীয়রা জানান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: এনসিপির নেত্রী রাফিয়া সুলতানা আর নেই
এ বিষয়ে পাউবো হবিগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদ চৌধুরী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীকে একত্রিত হয়ে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে জরুরি তহবিল থেকে বরাদ্দ এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম রেজাউল করিম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিজ্ঞাপন
এদিকে ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাহানগর গ্রামের শতাধিক পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।








