মুক্তাগাছায় বাক প্রতিবন্ধী কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় এক বাক প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৮নং দাওগাঁও ইউনিয়নের শুকপাটুলী গ্রামে।
বিজ্ঞাপন
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী বাক প্রতিবন্ধী এবং তার দরিদ্র পরিবারে আরও একাধিক প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে। কিছুদিন আগে তার শারীরিক অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে পরে জানা যায়, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তবে অসহায় পরিবারের এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা থাকলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুর রশীদ ও নুরুল ইসলাম বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এমনকি ভুক্তভোগীর পক্ষে কথা বললে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ঘটনার পর সন্দেহভাজন কয়েকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে নুরুল ইসলাম ও মিসকাতসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় ও দরিদ্র। জন্ম থেকেই তারা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করছে। কে এমন জঘন্য কাজ করেছে, তা খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।”
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
এলাকাবাসীর মতে, এ ঘটনা সমাজের নিরাপত্তা ও মানবিকতার ওপর বড় প্রশ্ন তুলেছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় যদি এমন ঘটনা চাপা পড়ে যায়, তবে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
অভিযোগ রয়েছে, আব্দুর রশীদ ভুক্তভোগী কিশোরীর সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দিচ্ছেন না।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, “এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।








