ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আটক ৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দোকানঘর নির্মাণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিনদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবিসহ তিনজনকে আটক করেছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, বাজারে একটি দোকানঘর নির্মাণকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। একপক্ষে ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি ও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম। অপরপক্ষে ছিলেন বাজার কমিটির সভাপতি শামীম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য-সচিব আবু কাউছার এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজনু সরকার।
বিজ্ঞাপন
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় আগের দিন এক পক্ষের পক্ষ থেকে হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। মঙ্গলবার সকালে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি, তার ভাই শফিকুল ইসলাম, তুহিন ও রুবেল এবং অপরপক্ষের শামীম, তার ছেলে শান্ত ও মজনু সরকারসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।
আহতদের দ্রুত নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি দাবি করেন, তিনি কোনো অবৈধ কাজ করেননি এবং যে জায়গায় দোকান নির্মাণ করা হচ্ছিল সেটি তার লিজ নেওয়া। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষের লোকজন জড়ো হয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, যুবদলের সাবেক নেতা আবু কাউছার বলেন, সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণের চেষ্টা করলে তাদের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। এরপরই তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।








