মে দিবসেও বদলায়নি চা শ্রমিকদের জীবন

সবুজে ঘেরা চা বাগানের সৌন্দর্যের আড়ালে এখনো দারিদ্র্য ও বঞ্চনার গল্পই বহন করছে মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকরা। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, বাংলাদেশের ১৭২টি চা বাগানের মধ্যে শুধু মৌলভীবাজারেই রয়েছে ৯৭টি বাগান, যেখানে লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করেন। এর বড় অংশই নারী শ্রমিক, যারা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চা পাতা সংগ্রহ করেন।
শ্রমিকরা জানান, দেশের চা উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ হলেও তাদের জীবনে এসেছে খুব সামান্যই পরিবর্তন। এখনো তারা ন্যূনতম মজুরি, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
আরও পড়ুন: ঘোড়াঘাটে মহান মে দিবস পালিত
বিজ্ঞাপন
প্রেমনগর চা বাগানের শ্রমিক গোপাল রবিদাস বলেন, “মে দিবস আসে, আবার চলে যায়, কিন্তু আমাদের জীবনমানের কোনো উন্নতি হয় না। এখনো দৈনিক ১২০ থেকে ১৮৭ টাকা মজুরিতে কাজ করতে হচ্ছে।”
আরেক শ্রমিক নয়নমনি রবিদাস বলেন, প্রায় ২০০ বছর ধরে বসবাস করলেও তারা এখনো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তারা মে দিবসকে শ্রমিক অধিকার আদায়ের চেতনার দিন হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর (শ্রীমঙ্গল) এর উপ-পরিচালক মহব্বত হোসাইন বলেন, বর্তমানে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৮৭ টাকা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
তবে বাস্তবতায় শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি থাকলেও তাদের জীবনযাত্রায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো আসেনি।








