গাইবান্ধায় কুকুরের কামড়ে ৫ জনের মৃত্যু

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে সুলতানা বেগম (৩৯) নামের আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে একই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন নারী ও দুই পুরুষসহ মোট ৫ জনে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আরও ৮ জন আহত অবস্থায় রয়েছেন। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৩ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুবনী বাজার এলাকার নিজ বাড়িতে সুলতানা বেগমের মৃত্যু হয়। তিনি ওই এলাকার আব্দুস সালামের স্ত্রী। গত চার দিন ধরে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতেই ছিলেন। গত ২২ এপ্রিল সকালে তিনি বেওয়ারিশ একটি পাগলা কুকুরের কামড়ের শিকার হন।
দুপুর ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তাজরুল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
নিহতদের মধ্যে এর আগে ৬ মে মারা যান কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুবনী বাজার এলাকার মতিয়ার রহমানের স্ত্রী আফরুজা বেগম (৪০) এবং একই গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া (৫২)। এরপর ৮ মে মারা যান পার্শ্ববর্তী ছাপরহাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকার কাঠমিস্ত্রী রতনেশ্বর বর্মণ (৪২)। সর্বশেষ আজ আফরুজা বেগমের মৃত্যুর মাধ্যমে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ে।
এর আগে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন আরও কয়েকজন। নিহত রতনেশ্বর বর্মণ ঘটনার দিন বজরা কঞ্চিবাড়ি এলাকায় কাজ করতে এসে কুকুরের কামড়ে আহত হন।
এছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের লুৎফর রহমানের স্ত্রী ফজিতন নেছা, আশরাফুল আলমের স্ত্রী রুমিনা বেগম, লাল মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম, মৃত উমিতুল্লাহ ব্যাপারীর ছেলে হামিদুল ইসলাম, জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী গোলেনুর বেগম, মনসুর আলীর মেয়ে মিতু আক্তার, শহিদুল ইসলামের ছেলে আতিকুর মিয়া, খাইরুল ইসলামের মেয়ে লাবন্য আক্তার ও আনিছুর রহমানের ছেলে বিজয় হোসেন।
বিজ্ঞাপন
নিহত সুলতানা বেগমের ছেলে আল আমিন বলেন, “গত চার দিন ধরে আমার মায়ের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। দুধ ছাড়া তিনি কিছুই খেতে পারতেন না। কুকুরটি তার কানের নিচে ও গলায় কামড় দিয়েছিল। ঘটনার দিন দুপুরে তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ইনজেকশন দেওয়া হয়। তবে সেটি সরকারি নাকি বাইরে থেকে কিনে দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই।”
আরও পড়ুন: ঢাকায় আসছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
ওয়ার্ড সদস্য তাজরুল ইসলাম বলেন, “কুকুরের কামড়ে আরও একজনের মৃত্যু হলো। এ পর্যন্ত একই ঘটনায় আক্রান্ত ১৩ জনের মধ্যে ৫ জন মারা গেছেন। আহত ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে গেছে।”
বিজ্ঞাপন
গাইবান্ধার সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকা নেওয়ার পরও মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন।
গাইবান্ধা জেলার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেন, কুকুর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব প্রাণিসম্পদ বিভাগের। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন থাকলেও কেউ সেখানে চিকিৎসা নিতে যাননি।
অন্যদিকে গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এসব ঘটনার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার। নির্দিষ্ট এলাকায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের কাছে কোনো ভ্যাকসিন মজুত নেই।
বিজ্ঞাপন
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান (এমপিএইচ) বলেন, আক্রান্তরা সময়মতো এবং সঠিকভাবে ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন কি না তা যাচাই করা জরুরি। সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন নিলে সাধারণত মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। ভ্যাকসিনের মেয়াদ ও কার্যকারিতাও খতিয়ে দেখা দরকার।
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল সকালে বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামে একটি বেওয়ারিশ কুকুর আকস্মিকভাবে তাণ্ডব চালায়। অল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক ১৩ জনকে কামড়ে গুরুতর আহত করে। বেশিরভাগের মুখমণ্ডলে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। আহতরা পরে বিভিন্ন স্থানে ভ্যাকসিন নিলেও পরে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাদের রংপুরে স্থানান্তর করা হয়।








