ঝিকরগাছা পৌরসদরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ মাটি বোঝাই ট্রাক: ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ইউএনও’র

যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসদরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধভাবে মাটি বোঝাই ট্রাক ও ট্রলি। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব যানবাহন অবাধে চলাচল করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ভারী যানবাহনের কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ও সৃষ্টি হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, অবৈধ মাটি কাটা ও পরিবহনের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকায় প্রশাসন কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনার খবর পাওয়া গেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।
বিগত সরকারের আমলে পৌর সদরের ৭নং ওয়ার্ড পুরন্দরপুর গ্রামে বিভিন্ন স্থানসহ কপোতাক্ষ নদের পাশে পাড় বাধানো মাটি তৎকালিন পৌর কাউন্সিলরের নেতৃত্বে মাটি কেটে বিক্রয় করা একই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে তুষার (৪০)।
বিজ্ঞাপন
আবাসিক সড়কে অতিরিক্ত গতিতে চলাচলকারী মাটি বোঝাই ট্রাকের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি ও খাল থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে তা পরিবহন করা হচ্ছে। যাহা বিক্রয় করা হচ্ছে ট্রাক প্রতি ১২০০টাকায়। “প্রতিদিন কয়েকটি ট্রাক শত শত বার চলাচল করছে। রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে, ধুলাবালিতে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। প্রকাশ্যে দিনের আলোয় এসব যানবাহন চলাচল করায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং এলাকার কোমলমতি শিশুদের চলাফেরা নিয়ে শঙ্কায় অভিভাবক মহল।
এমন ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনকে অবহতি করা হলেও তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও এখনো পর্যন্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা ও মাটি বোঝাই ট্রাক চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে পৌর এলাকার সড়ক, পরিবেশ ও জননিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে এলাকাবাসীরা দাবী জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযুক্ত তুষার বলেন, আমার থানা থেকে অনুমতি নেওয়া আছে। সংবাদকর্মীরা তখন থানার কার নিকট থেকে অনুমতি নেওয়া আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে থানা থেকে অনুমতি নেওয়া নেই। যার জমি থেকে আমি মাটি কাটাচ্ছি তিনি অফিসে গেছেন অনুমতি নিতে। দাপ্তরিক অনুমতির পূর্বে মাটি কাটা ঠিক হচ্ছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমার ভূল হয়েছে কাজটা ঠিক হচ্ছে না। আমি কাজ বন্ধ রাখচ্ছি, অনুমতি পেলে কাজ করবো।
কিন্তু তিনি কাজ বন্ধ না করে গাড়ি বাড়িয়ে দিয়ে আরও দ্রুত কাজ পরিচালনা করছেন (ঘটনাটির সময় মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে)। সোমবার (১১ মে) সারাদিন ও মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কাজ বন্ধ করে আজ বুধবার (১৩ মে) সকাল হতে কোন প্রকার অনুমতি ব্যতিত আবারও কাজ পরিচালনা করছেন।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, আমি গতকাল থানায় ব্যবস্থা নিতে বলেছি তারপরও এখন অবার ওসিকে জানালাম দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এবং এর সাথে কারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করতে।
উল্লেখ্য নিউজ না করার জন্য সাংবাদিককে চা-নাস্তা খরজ দেওয়ার জন্য বিকাশ নাম্বার চান অভিযুক্ত তুষার।








