ঢাকায় আসছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পশুর খামারগুলোতে জমে উঠেছে কেনাবেচা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। তবে এবার সবার নজর কেড়েছে ব্যতিক্রমী রঙের এক বিশাল মহিষ। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের গোলাপি রঙের এলবিনো মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। অদ্ভুত চেহারা ও নামের কারণে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে প্রাণীটি।
বিজ্ঞাপন
নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় অবস্থিত ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ থাকা এই মহিষটিকে দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার অনেকে শুধুই এক নজর দেখতে খামারে হাজির হচ্ছেন।
খামার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ মাস আগে রাজশাহীর একটি পশুর হাট থেকে মহিষটি কেনা হয়। সম্প্রতি ঢাকার এক ক্রেতার কাছে লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে এটি বিক্রি করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে নতুন মালিকের কাছে মহিষটি হস্তান্তর করা হবে।
কেন নাম রাখা হলো ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’?
বিজ্ঞাপন
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, মহিষটির মাথার সামনের অংশে থাকা লম্বা লালচে-সোনালি চুল অনেকটাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচিত হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে মিল রয়েছে। সেই কারণেই মজার ছলে প্রাণীটির নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। পরে এই নামই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
শুধু নাম নয়, গোলাপি বর্ণের শরীরও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সাধারণত মানুষ কালো রঙের মহিষ দেখতে অভ্যস্ত হলেও এই এলবিনো মহিষটির রং সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় শুরু থেকেই এটি দর্শনার্থীদের কৌতূহলের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ খাবারে বেড়ে উঠেছে ‘ট্রাম্প’
খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা জানান, মহিষটির যত্নে কোনো কমতি রাখা হয়নি। প্রতিদিন ১২ ধরনের উপাদান মিশিয়ে বিশেষ খাদ্য তৈরি করা হয়। খাদ্যতালিকায় রয়েছে ঘাস, ভুট্টা, ভুসিসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার।
তিনি বলেন, এলবিনো জাতের মহিষ সাধারণত শান্ত স্বভাবের হয়ে থাকে। এই মহিষটিও অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র আচরণের। কেউ বিরক্ত না করলে এটি আক্রমণাত্মক আচরণ করে না।
বিজ্ঞাপন
তার ভাষায়, “মানুষ সাধারণত কালো মহিষই দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এই গোলাপি রঙের মহিষ দেখে শুরু থেকেই সবাই অবাক হয়েছে। পরে নামটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।”
দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর খামার
খামারের কর্মচারী ও রাখালদের ভাষ্য, দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশ শুধু ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতেই খামারে আসছেন। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে প্রাণীটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকে মহিষটির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করছেন।
বিজ্ঞাপন
রাখাল জুবায়ের জানান, খামারে আরও কয়েকটি পশুর ব্যতিক্রমী নাম রয়েছে—যেমন ‘তুফান’, ‘রহমান ডাকাত’ ও ‘মাস্তান’। তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই জনপ্রিয়তা
খামার সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ভিন্ন রঙের কারণেই নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও রিলস ছড়িয়ে পড়ার কারণেই মহিষটি দ্রুত পরিচিতি পেয়েছে। টিকটক, ফেসবুক ও ইউটিউবে এর নানা ভিডিও ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
খামার মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা বলেন, বর্তমানে পশুর নামকরণ শুধু ব্যবসায়িক কৌশল নয়, এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। ব্যতিক্রমী নাম সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি জানান, শুরুতে মজা করেই নামটি রাখা হয়েছিল, কিন্তু পরে সেটিই খামারের পরিচিতি বাড়িয়ে দেয়।
এলবিনো মহিষ নিয়ে যা বলছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার। এর বিপরীতে জেলার ৬ হাজার ৫৩৫টি খামারে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার পশু। অর্থাৎ জেলার চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে পরিচিত মহিষটি কোনো বিদেশি জাত নয়, বরং এটি দেশীয় এলবিনো প্রকৃতির মহিষ। প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে রঞ্জক পদার্থের স্বল্পতার কারণে এলবিনো প্রাণীর গায়ে এমন ব্যতিক্রমী রঙ দেখা যায়। এ ধরনের প্রাণী তুলনামূলক বিরল হওয়ায় সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।








