মায়ের মৃত্যুতে শাবকের কান্না, ছুটে এলো হাতির পাল

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অসুস্থ অবস্থায় লোকালয়ে পড়ে থাকা একটি বন্য মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। আর মায়ের মৃত্যুর পর শাবকের কান্না ও চিৎকারে আশপাশে প্রায় ১০টি বন্যহাতির একটি পাল জড়ো হওয়ার ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য ও আবেগঘন পরিবেশ।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৭ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাগজিখোলা সংলগ্ন চকরিয়া লাম্বা হাকখোলা পূর্ণ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার সকাল থেকেই নূর মোহাম্মদের বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি বন্য হাতিকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাতিটির পাশেই তার ছোট একটি শাবক অবস্থান করছিল। কেউ কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেই শাবকটি আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করছিল এবং মায়ের পাশ ছাড়ছিল না
বিজ্ঞাপন
পরে খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিটির চিকিৎসার উদ্যোগ নেন। স্থানীয়দের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও হাতিটির শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে মা হাতিটির মৃত্যু হলে কিছু সময়ের মধ্যেই প্রায় ১০টি বন্যহাতির একটি পাল ঘটনাস্থলের আশপাশে এসে জড়ো হয়। তখন শাবকটিকে মৃত মা হাতির পাশেই অবস্থান করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করার পর হাতির দলটি আবার পাহাড়ের দিকে চলে যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে যেমন আতঙ্ক বিরাজ করছে, তেমনি মা হাতি ও শাবককে ঘিরে আবেগঘন পরিবেশেরও সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বন বিভাগ জানিয়েছে, মৃত হাতিটির নমুনা সংগ্রহ করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দৃশ্যটি খুবই হৃদয়বিদারক ছিল জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বলেন, সকাল থেকে হাতিটাকে পড়ে থাকতে দেখি। পাশে ছোট বাচ্চাটাও ছিল। মানুষ কাছে গেলেই শাবকটি চিৎকার করছিল।
বিজ্ঞাপন
আরেক বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ বলেন, আমরা বন বিভাগকে খবর দেওয়ার পর ঈদগাঁও থেকে বন বিভাগের কর্মকর্তা উজ্জ্বল ঘটনাস্থলে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তা উজ্জ্বল বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ এনে হাতিটির চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাতিটির শারীরিক অবস্থা খুবই দুর্বল ছিল। শেষ পর্যন্ত রাত ১২টার দিকে হাতিটি মারা যায়।








