অটোরিকশার দখলে চান্দিনা বাজার

কুমিল্লার চান্দিনা বাজার এখন যেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দখলে। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রতিদিন প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে।
বিজ্ঞাপন
চান্দিনা উপজেলা পরিষদ, চান্দিনা থানা, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, বিভিন্ন ব্যাংক, কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নানা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবস্থানের কারণে এখানে মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
কিন্তু অপরিকল্পিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডের কারণে বাজারজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, চান্দিনা মোকামবাড়ি থেকে উপজেলা গেইট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার প্রধান সড়কের রামমোহন রোডের প্রবেশমুখ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো অটোরিকশার দখলে।
নির্ধারিত কোনো স্ট্যান্ড না থাকায় চালকেরা যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তুলছেন। বিশেষ করে রামমোহন রোডের পূর্ব ও পশ্চিম পাশ এবং পুরাতন গরু বাজার সড়কের পশ্চিম পাশে মূল সড়কের দুই দিক দখল করে অটোরিকশা দাঁড় করানো হচ্ছে। ফলে সড়কের অর্ধেকেরও বেশি অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়ছে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
যাত্রী দেখলেই হঠাৎ ব্রেক করে অটোরিকশা থামানোয় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বাজার এলাকায় পথচারীদের চলাচলও হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
চান্দিনা বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, যানজটের কারণে মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে দুপুরের দিকে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অটোরিকশার জন্য নির্ধারিত একটি স্ট্যান্ড চালু করা জরুরি।
চান্দিনা মীম হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুর রহমান সরকার বলেন, যানজটের কারণে অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও প্রবেশ করতে বেগ পায়। সড়কের দুই পাশ দখল করে অটোরিকশা দাঁড় করানোই এর মূল কারণ।
অ্যাম্বুলেন্স চালক মেহেদী হাসান জানান, জরুরি সাইরেন বাজিয়েও অনেক সময় যাওয়ার জায়গা পাওয়া যায় না। এভাবে সড়কের ওপর গাড়ি থামিয়ে রাখলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
বিজ্ঞাপন
পথচারী রাবেয়া বেগম বলেন, সড়কের দুই পাশে অটোরিকশা রাখার কারণে মাঝখানের সরু অংশ দিয়ে চলাচল করা খুব কষ্টকর। অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা উচিত।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল হক বলেন, আমাদের অনুমোদিত দুটি সিএনজি স্ট্যান্ড আছে, কোনো অটোরিকশার স্ট্যান্ড নেই। বিভিন্ন সময় আমরা অভিযান চালিয়ে এবং আনসার সদস্যদের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে এটি পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞাপন
অটোচালকেরা বলছেন, তারা প্রতিদিন পৌরসভার রসিদে ২০ টাকা করে দিলেও স্ট্যান্ড বাবদ কোনো টাকা নেওয়া হয় না।
সচেতন মহলের মতে, এভাবে অটোরিকশা সড়ক দখল করে রাখলে যানজটের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। পাশাপাশি দিনের বেলায় বাজার এলাকায় বড় পরিবহন প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।








