Logo

একসঙ্গে জানাজা, পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত চার ভাই

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম
২০ মে, ২০২৬, ১৫:১৫
একসঙ্গে জানাজা, পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত চার ভাই
ছবি: সংগৃহীত

ওমানে গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া একই পরিবারের চার ভাইয়ের মরদেহ নিজ এলাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে একসঙ্গে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২০ মে) বেলা ১১টার দিকে লালানগর স্কুল মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে চার ভাইকে পাশাপাশি কবর দিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোক। পরিবারজুড়ে শুরু হয় কান্নার মাতম।

বিজ্ঞাপন

নিহতরা হলেন— রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তাদের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দেরাজাপাড়া এলাকায়।

জানাজায় ইমামতি করেন নিহতদের একমাত্র জীবিত ভাই এনামুল হক, যিনি স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষক। জানাজার আগে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে উপস্থিত সবার কাছে ভাইদের জন্য দোয়া চান।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চার ভাইয়ের কফিনবন্দি মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে মরদেহ গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

পরে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে লালানগরের নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। বুধবার ভোরে মরদেহ পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।

স্থানীয়রা জানান, চার ভাইকে পাশাপাশি দাফনের জন্য আগে থেকেই কবর খনন করা হয়। শেষবার তাদের দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করেন।

বিজ্ঞাপন

সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, এই ঘটনায় পুরো এলাকা শোকাহত। সরকারিভাবে পরিবারকে দাফন ও মরদেহ পরিবহনের জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা সবাই রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা ছিলেন।

ওমান পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির গ্যাস থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইডে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই ভাইয়ের ১৫ মে দেশে ফেরার কথা ছিল। সেই উপলক্ষে চার ভাই একসঙ্গে কেনাকাটার জন্য বের হয়েছিলেন।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানদের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর থেকেই তাদের মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারের জন্য তিন লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD