Logo

‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত ও বিশ্বাসঘাতক’

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
১ জুন, ২০২৬, ১৯:১৮
‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত ও বিশ্বাসঘাতক’
ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছেন দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক হারুনুর রশিদ। তিনি জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বকে ‘গুপ্ত জামায়াত’ ও বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যায়িত করে অভিযোগ করেছেন, গত নির্বাচনে এসব নেতা জামায়াতকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেননি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৩০ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে হারুনুর রশিদকে বলতে শোনা যায়, বর্তমান জেলা বিএনপির দায়িত্বে থাকা নেতাদের সবাই গুপ্ত জামায়াতের সদস্য। তিনি দাবি করেন, এদের কেউই বিএনপির ভোট করেনি। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য দলের চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানাবেন এবং এর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গত নির্বাচনের সময় আপনি (পার্টির চেয়ারম্যান) আমাদের মনোনয়ন দিয়েছিলেন। প্রার্থী হিসেবে আমি, শাহজাহান মিঞা ও আমিনুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আপনার থানার দায়িত্বে থাকা নেতারা আমাদের পক্ষে কাজ না করে উল্টো রাস্তা অবরোধ করে মশাল মিছিল করেছে। এদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনকি নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট আসনটিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে তারা রেললাইন পর্যন্ত অবরোধ করেছিল। আপনার নিজের হাতে দেওয়া কমিটির নেতারাই আজ মঞ্চে দাঁড়িয়ে বড় বড় বক্তৃতা দেয় এবং নিজেদেরকে প্রকৃত বিএনপি বলে দাবি করে।

হারুনুর রশিদ আরও বলেন, রাজশাহী থেকে একজন এসে প্রধান অতিথি হয়ে মঞ্চে বসলেন এবং বিভিন্ন নীতিবাক্য শুনিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন। আমি ছাত্রদলের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ছাত্রদল হবে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তোমাদের বুক চিতিয়ে প্রতিবাদ করতে হবে। এখানে কারো চামচামি করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের তো এখন রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। কিন্তু আমরা চাই, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম একটি সুনির্দিষ্ট আদর্শ, নীতি ও নৈতিকতা নিয়ে গড়ে উঠুক। তারা যেন যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে। ছাত্রদলকে ঠিক তেমনই একটি শক্তিশালী ও আদর্শিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম (রফিক চাইনিজ) বলেন, এটি হারুনুর রশিদের ব্যক্তিগত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য। ২০২১ সালে তারেক রহমান জেলা কমিটির দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে বিএনপি প্রকাশ্যে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করছে।

বিজ্ঞাপন

হারুনুর রশিদ অতীতে আওয়ামী লীগের প্রশংসা করেছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে ভোটাররা তাকে প্রত্যাখ্যান করায় তিনি ৬৪ হাজার ভোটে হেরেছেন।

সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ওবায়েদ পাঠানও এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, জেলা বিএনপি কোনো গুপ্ত রাজনীতি করে না, বরং হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমঝোতার ইতিহাস রয়েছে। জেলার মানুষ তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে তিনি হারুনুর রশিদের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে হারুনুর রশিদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ভিডিওতে যে বক্তব্য রয়েছে, সেটি তারই দেওয়া বক্তব্য। তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD