বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় প্রস্তুতির নির্দেশ চসিক মেয়রের

আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা, ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ খাল-নালার পাশে নিরাপত্তা রেলিং নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১ জুন) নগরের টাইগারপাসে অবস্থিত চসিক কার্যালয়ে বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা নিজ নিজ বিভাগের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সভায় প্রধান প্রকৌশলীর উদ্দেশে মেয়র বলেন, গত বছর যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছিল, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের সঙ্গে সমন্বয় করে পানি অপসারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাম্প বসানোর উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে ভারী বর্ষণের সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, প্রবল বর্ষণের সময় নগরীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আট থেকে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা যেতে পারে। একই সঙ্গে যেসব ম্যানহোলের ঢাকনা নেই বা চুরি হয়ে গেছে, সেগুলো দ্রুত স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ খাল ও নালার পাশে জননিরাপত্তার স্বার্থে রেলিং নির্মাণের নির্দেশ দেন।
নগর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদারের তাগিদ দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রতিটি জোনে কোথায় বর্জ্য অপসারণে সমস্যা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। যেসব এলাকায় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নেই, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সভায় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির বিষয়েও বিভিন্ন নির্দেশনা দেন মেয়র।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কাছ থেকে সিটি করপোরেশনের প্রাপ্য রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি যে-সকল কনটেইনার ইয়ার্ডের কর পুনর্নিধারণ প্রয়োজন, সেগুলোর রাজস্ব যথাযথভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: জীবননগরে মাদক মামলার চার আসামি গ্রেফতার
এ ছাড়া, গত কয়েক বছরে নগরীতে নিবন্ধিত ফ্ল্যাটগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতায় এসেছে কি না, তা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সভায় প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নগরীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরলে মেয়র চসিক পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহার অনুপযোগী ভবন দ্রুত সংস্কারের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।








