দর্শনায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে নারীর সাথে প্রতারণা-নির্যাতনের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়েল ইসলাম লিওনের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে বৈবাহিক তথ্য গোপন রেখে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা, অর্থ আদায়, মানসিক নির্যাতন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১ জুন) দুপুরে দর্শনা পৌরসভার কেরু এলাকার বাসিন্দা ও বর্তমানে ঢাকায় বসবাসরত এক চাকরিজীবী তালাকপ্রাপ্ত নারী সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকই নারী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, প্রায় ছয় মাস ধরে দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়েল ইসলাম লিওন নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেন।
বিজ্ঞাপন
প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে অর্থ গ্রহণ করে। অর্থ না দিলে মানসিক নির্যাতন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রতারণা করে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী বলেন, সম্পর্কের সময় বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে একাধিকবার অর্থ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধাও গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্যমতে, সম্পর্কের শুরু থেকেই বিশ্বাস ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে তাকে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন প্রয়োজনে আমি ডিএনএ টেস্ট ও ড্রপ টেস্ট করতেও পিছুপা হবোনা।
অডিও বার্তায় তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের সত্য জানতে পারার পর তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রিয়েল ইসলাম লিওন, ধীরে ধীরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মানসিক চাপে রাখার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন। প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি দাবি করেন, তার কাছে অভিযুক্তের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের একাধিক স্ক্রিনশট, কল হিস্ট্রি, ভয়েস রেকর্ড এবং ভিডিও কলের তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের কাছে উপস্থাপন করবেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রিয়েল ইসলাম লিওনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে নম্বরটি ভুল বলে দাবি করেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাইনূর আহমেদ দৌলত খান সুলতান বলেন, কোনো ছাত্রনেতা বা ছাত্রদলের কোনো নেতার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুযোগ নেই। যদি কেউ এমন ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে দল তার দায়ভার নেবে না। অভিযোগের সত্যতা ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. শাজাহান খান ও সাধারণ সম্পাদক মমিন মালিতা বলেন, এ ধরনের অভিযোগ যদি পাওয়া যায়। তার তথ্য প্রমান পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।








