ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে খাদে পড়ল মাইক্রোবাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেললাইন পার হওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ট্রেনের ধাক্কায় খাদে পড়ে গেছে। দুর্ঘটনায় যানবাহনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানি বা আহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার আগে চালক ও যাত্রীরা দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর প্রায় ২টার দিকে জেলার পাঘাচং রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ অংশে সংঘটিত এ দুর্ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে মুহূর্তেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
রেলওয়ে সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস নির্ধারিত রুটে চলছিল। ট্রেনটি পাঘাচং স্টেশন অতিক্রম করার পর কিছু দূরে একটি অননুমোদিত লেভেল ক্রসিং দিয়ে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে।
বিজ্ঞাপন
এ সময় অজ্ঞাত কারণে মাইক্রোবাসটি রেললাইনের ওপর আটকে যায়। চালক পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে দ্রুত গাড়িতে থাকা যাত্রীদের নামিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই দ্রুতগতিতে আসা জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস মাইক্রোবাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার তীব্রতায় মাইক্রোবাসটি রেললাইন থেকে ছিটকে পাশের খাদে গিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন জানান, সংঘর্ষের শব্দ অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যায় এবং মুহূর্তেই আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
দুর্ঘটনার পর দেখা যায়, মাইক্রোবাসটির সামনের ও পাশের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রেনের ধাক্কায় যানবাহনটি প্রায় দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তবে যাত্রীরা আগেই নেমে যাওয়ায় হতাহতের আশঙ্কা দূর হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত মাইক্রোবাসটি খাদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি সত্ত্বেও ট্রেন চলাচলে উল্লেখযোগ্য কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
স্থানীয়দের মতে, অননুমোদিত লেভেল ক্রসিং ব্যবহার এবং অসতর্কভাবে রেললাইন পারাপারের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। তারা নিরাপত্তা জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেলেও রেলপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে অনুমোদনহীন ক্রসিং ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।








