Logo

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে নারী-শিশুসহ প্রাণ গেল ৬ জনের

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
৪ জুন, ২০২৬, ২১:২১
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে নারী-শিশুসহ প্রাণ গেল ৬ জনের
ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক বিকেলের বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন নারী, কিশোর ও যুবকসহ ছয়জন। জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই দুর্যোগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বৃষ্টিপাতের সময় জেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাত হলে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ (১৭), শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের মাহমুদা আক্তার (১৯), রানীবাজার এলাকার সাদিয়া খাতুন (১৬), মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার মো. মেসবাউল (১৪), নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম (৪১) এবং গোসাইপুর গ্রামের যুবক হাসান আলি লালু (২১)।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়। তারা বাড়ির পাশের আমবাগানে আম সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুই কিশোরী ও এক কিশোর রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, বিকেলের বৃষ্টির সময় আমবাগানে অবস্থানকালে বজ্রপাতের শিকার হন তারা। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বজ্রপাতে প্রাণ হারানো তিন পরিবারের প্রত্যেককে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে সদর উপজেলার আতাহার এলাকায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায় কিশোর আব্দুল্লাহ। জানা গেছে, বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গবাদিপশু নিয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিল সে। এ সময় বজ্রপাত হলে গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, বজ্রাঘাতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

নাচোল উপজেলাতেও একই দিনে দুটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উপজেলার লাহাবাড়ি এলাকায় মাঠে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে নিহত হন সুমিয়ারা বেগম। তিনি মাঠ থেকে ঘাস কেটে ফিরছিলেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া বিকেলের দিকে গোসাইপুর এলাকায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান হাসান আলি লালু নামে এক যুবক। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, উপজেলার দুটি পৃথক স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষাকাল ও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় সময়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে খোলা মাঠ, আমবাগান, জলাশয়ের আশপাশ এবং উঁচু স্থানে অবস্থান করলে বজ্রাঘাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই বজ্রসহ বৃষ্টির সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

একদিনে জেলার তিন উপজেলায় ছয়জনের মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD