লুডু খেলা নিয়ে বন্ধুর মায়ের আঘাতে প্রাণ গেল আরেকবন্ধুর বাবার

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় মোবাইল ফোনে লুডু খেলা নিয়ে দুই কিশোর বন্ধুর মধ্যে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক ঘটনায় রূপ নিয়েছে। প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে ইট-পাথরের আঘাতে আহত হয়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মা ও ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম পোলমোগরা গ্রামের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল হোসেন জাফর (৪৮) ওই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় মোবাইলে লুডু খেলা নিয়ে। প্রতিবেশী কিশোর রায়হান তার বন্ধু ইমনকে খেলায় অংশ নিতে ডাকতে যায়। তবে ইমন খেলতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে বিষয়টি দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞাপন
নিহতের স্ত্রী রুনা বেগম জানান, ছেলেদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার পর রায়হান এবং তার মা জাহেদার সঙ্গে তাদের পরিবারের বিরোধ তৈরি হয়। এ অবস্থায় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পর জাফর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে গুরুতর আহত হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে ঘটনাটির বিষয়ে ভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, দুই কিশোরের ঝগড়ার জেরে জাফর ঘটনাস্থলে গেলে তার সঙ্গে রায়হান ও তার মা জাহেদার ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় জাহেদা একটি বড় পাথর ছুড়ে মারেন, যা জাফরের বুকে আঘাত করে। এরপর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক বাঁধন দাস জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। তিনি বলেন, শরীরে বড় ধরনের দৃশ্যমান আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে স্ট্রোক বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতাও মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রায়হান এবং তার মা জাহেদাকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং মৃত্যুর সঠিক উৎস নির্ধারণে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের মতে, তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি মোবাইল গেমকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত একজনের প্রাণহানিতে গড়ানোয় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।








