দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি-লঞ্চ চলাচল বন্ধ

বৈরী আবহাওয়া, প্রবল ঝোড়ো বাতাস এবং পদ্মা নদীতে সৃষ্ট উত্তাল ঢেউয়ের কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তের ফলে নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা হাজারো যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও যানবাহনের চালক চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৬ জুন) দুপুরের দিকে নদীর পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রথমে ফেরি চলাচল এবং পরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর ফলে উভয় প্রান্তের ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ২টার দিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। নদীতে প্রবল বাতাসের কারণে বড় বড় ঢেউ সৃষ্টি হওয়ায় ফেরি পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান, যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতিতে ফেরি পরিচালনা করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার আগে এ নৌপথে মোট ১৫টি ফেরি চলাচল করছিল। তবে চলাচল স্থগিত হওয়ার সময় যাত্রী ও যানবাহনসহ ছয়টি ফেরি দৌলতদিয়া প্রান্তে অবস্থান করছিল, যা সাময়িকভাবে আটকা পড়ে।
এদিকে একই ধরনের পরিস্থিতির কারণে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নদীতে ঢেউয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় লঞ্চ চলাচল নিরাপদ নয় বলে মনে করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
বিআইডব্লিউটিএর দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের ট্রাফিক সুপারভাইজার মো. শিমুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে এ নৌরুটে ১৬টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করছিল।
ফেরি ও লঞ্চ একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। অনেকেই জরুরি কাজে বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হলেও ঘাটে এসে আটকে পড়েছেন। একইভাবে পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘাট এলাকায় অবস্থানরত কয়েকজন চালক ও যাত্রী জানান, হঠাৎ করে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। কেউ কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ বিকল্প পথে যাত্রার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন।
বিজ্ঞাপন
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীসহ অন্যান্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। ফলে এই রুটে চলাচল বন্ধ হলে দ্রুতই যানজট ও যাত্রীচাপ তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ফেরি ও লঞ্চ চলাচল পুনরায় চালু করা হবে না। নদীর স্রোত, ঢেউ এবং বাতাসের গতি পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
এ সময় যাত্রীদের অযথা ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘাট এলাকায় অবস্থানরত যাত্রী ও চালকদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়া অনুকূলে ফিরলে এবং নদীতে চলাচলের পরিবেশ নিরাপদ হলে ফেরি ও লঞ্চ পুনরায় চালু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ততক্ষণ পর্যন্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পারাপার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।








