দুর্ঘটনার পরও থামছে না উচ্ছৃঙ্খলতা, তুরাগে নৌকায় মাদক ও নাচানাচি

গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় তুরাগ নদীতে ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উচ্চস্বরে গান বাজানো, নাচানাচি ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিজ্ঞাপন
নদীতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলেও প্রতিদিনই তরুণদের একটি অংশ বিনোদনের নামে ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদের পর থেকে তুরাগ নদীতে বিনোদনমূলক নৌভ্রমণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন নৌকায় সাউন্ড সিস্টেম বসিয়ে উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং যাত্রীদের নাচানাচির দৃশ্য নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। তবে অধিকাংশ নৌযানে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া বা অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের দাবি, গত ৩০ মে তুরাগ নদীতে একটি নৌভ্রমণের সময় দুর্ঘটনায় একজন যুবকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর কিছুদিন সতর্কতা দেখা গেলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি আবারও স্বাভাবিকের মতো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন অংশে একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। অনেক নৌকায় যাত্রীদের নাচানাচির পাশাপাশি মাদক ও মদ্যপানের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেছেন তারা।
শুক্রবার (০৫ জুন) বিকেলেও তুরাগ নদীর কয়েকটি নৌকায় উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের ভাষ্যমতে, কিছু নৌকায় বিদেশি মদের বোতল হাতে নিয়ে নাচানাচির ঘটনাও ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পরও কোনো ধরনের সচেতনতা বা নিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছে না। নৌযানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই যাত্রী পরিবহন চলায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, নদীতে নিয়মিত টহল জোরদার, নৌযানে লাইফ জ্যাকেটসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম বাধ্যতামূলক করা এবং মাদক ও মদ্যপানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
সচেতন মহলও তুরাগ নদীতে বিনোদনমূলক নৌযান চলাচলের ওপর প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা বিধিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।








