Logo

সিলেটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
সিলেট
৬ জুন, ২০২৬, ১৫:৩৪
সিলেটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ট্রাক শ্রমিক নেতা মো. আবুল হোসেন হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা না হলে সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে সব ধরনের পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে।

বিজ্ঞাপন

শ্রমিক নেতাদের ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার (৬ জুন) দিনের মধ্যে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আগামীকাল রবিবার (৭ জুন) ভোর ৬টা থেকে ধর্মঘট কার্যকর হবে। এতে সিলেট অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যানসহ পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা উপ-কমিটির সভাপতি কবির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, শ্রমিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনার বিচার দাবি করে আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় সংগঠনটি কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিলেটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং র‍্যাব-৯-এর কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনের সভাপতি আবু সরকার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম আহমদ লস্কর স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ মে বিমানবন্দর থানার ধূপাগুল এলাকায় নিজের ক্রাশার মিলের কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার খাগাইল এলাকায় হামলার শিকার হন শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল হামলাকারী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর আক্রমণ চালায়।

বিজ্ঞাপন

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কয়েকদিন নিবিড় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৭ মে তার মৃত্যু হয়। পরে ঈদের দিন তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পরও মামলার মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাদের দাবি, তদন্তে গতি না থাকায় প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এমনকি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত বিদেশে চলে গেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সুজন চন্দ্র কর্মকার জানান, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলার গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এদিকে শ্রমিক সংগঠনের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাথর, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD